পদত্যাগের হিড়িক লেগে গেছে যেন বিসিবিতে। ৯ ঘণ্টার বোর্ড সভার পর সরে দাঁড়ান ৪ জন পরিচালক। সভা শেষেই পদত্যাগ করেন ফাইয়াজুর রহমান। পরে পদত্যাগপত্র দেন শানিয়ান তানিম ও মেহরাব আলম চৌধুরি। মধ্যরাতে জানা যায় তাদের সঙ্গী হয়েছেন মঞ্জুর আলমও।আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের বয়স ছয় মাস হওয়ার আগেই পদত্যাগ করলেন এই নিয়ে সাতজন পরিচালক । উল্লেখ্য ফাইয়াজুর ছিলেন বোর্ডের ডিসিপ্লিনারি কমিটির চেয়ারম্যান ও ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিসের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন এই পরিচালক । ফ্যাসিলিটিজ ম্যানেজমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন শানিয়ান। সিকিউরিটি কমিটির প্রধান ছিলেন মেহরাব। মেডিকেল বিভাগের ভার ছিল মঞ্জুরের । এই চারজনই বিসিবির ম্যারাথন সভায় ছিলেন। সেখানে অনেক সিদ্ধান্তও হয়। কিন্তু এরপরই বোর্ড থেকে সরে গেলেন তারা।
গত ২৪ জানুয়ারি ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান ইশতিয়াক সাদেক। গত ২৩ মার্চ বোর্ডের মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর পরিচালক পদ থেকেই সরে দাঁড়ান আমজাদ হোসেন । এরপর থেকেই গুঞ্জন ছিল, আরও কয়েকজন পরিচালক পদত্যাগ করার কথা ভাবছেন। সেসবই সত্যি হলো সময়ের সঙ্গে। গত বৃহস্পতিবার পদত্যাগ করেন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের মনোনীত পরিচালক ইয়াসির মহম্মদ ফয়সাল আশিক। তিনি ছিলেন লজিস্টিকস ও প্রোটোকল কমিটির চেয়ারম্যান । সেই তিনজনের পর এবার একদিনে ইস্তফা দিলেন আরও চারজন।
গত অক্টোবরে নির্বাচনের মাধ্যমে দায়িত্ব নেয় বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ। তবে তখনকার সরকারের হস্তক্ষেপ ও প্রভাব বিস্তারের বিস্তর অভিযোগে সেই নির্বাচন ছিল প্রবল প্রশ্নবিদ্ধ। সেই নির্বাচনে অনিয়ম ও কারসাজির অভিযোগ তদন্তে গত মাসে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। দু-একদিনের মধ্যেই সেই কমিটির প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা।
এই পরিচালনা পর্ষদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা চলছে ক্রিকেটাঙ্গনে। এই বোর্ড টিকবে না বলেও জোর গুঞ্জন চলছে কিছুদিন ধরেই। একের পর এক পরিচালকের পদত্যাগ সেসব গুঞ্জনের পালে আরও জোর হাওয়া দিচ্ছে।


