ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ ২০২৬’এ কলকাতা নাইট রাইডার্সের বোলিং নিয়ে উদ্বেগ বেড়েই চলেছে। চোটে জর্জরিত পেস আক্রমণের মাঝেই নতুন ধাক্কা—শ্রীলঙ্কান পেসার মাথিশা পাথিরানা এখনও শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড থেকে ফিটনেস ছাড়পত্র পাননি। ফলে কেকেআর শিবিরে তাঁর যোগ দেওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা বজায় রয়েছে।
পাথিরানা সহ শ্রীলঙ্কার ১৫ জন কেন্দ্রীয় চুক্তিবদ্ধ খেলোয়াড় এখনও বাধ্যতামূলক ফিটনেস টেস্ট সম্পন্ন করতে পারেননি। ৪৫ জনের মধ্যে মাত্র ২৪ জন এই পর্যন্ত ফিটনেস ক্লিয়ারেন্স পেয়েছেন। চোট এবং লজিস্টিক সমস্যার কারণে এই বিলম্ব ঘটছে বলেই জানা গিয়েছে । যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর ওপর। বিশেষ করে ১৮ কোটি টাকায় পাথিরানাকে কেনা কেকেআর এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত।
ইএসপিএন-ক্রিকইনফোর তথ্য অনুযায়ী, টি-২০ বিশ্বকাপে পাওয়া পায়ের পেশির চোট সারিয়ে পাথিরানা বর্তমানে নেটে বোলিং শুরু করেছেন। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে তাঁর ফিটনেস টেস্ট হওয়ার কথা রয়েছে। সব ঠিক থাকলে এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে তিনি ভারতে এসে দলের সাথে যোগ দিতে পারেন। তবে লঙ্কান বোর্ড এবার কড়াকড়ি নিয়ম করেছে—স্প্রিন্ট, অ্যাজিলিটি এবং এনডুরেন্স টেস্টে উত্তীর্ণ না হলে কোনো ক্রিকেটারকে এনওসি দেওয়া হবে না । অন্যদিকে, লক্ষ্ণৌ সুপার জায়ান্টসের ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গার অবস্থা আরও জটিল। হ্যামস্ট্রিং চোটের কারণে তিনি এখনও এনওসির আবেদনই করেননি । ফলে তাঁর ফেরা নিয়ে ঘোর অনিশ্চয়তা রয়েছে।
আইপিএল ২০২৬’র শুরু থেকেই কেকেআরের বোলিং বিভাগ নড়বড়ে দেখাচ্ছে। হর্ষিত রানা ও আকাশদীপের চোট, পাথিরানার অনুপস্থিতি এবং মুস্তাফিজুর রহমানের নাম প্রত্যাহার করে নেওয়া—সব মিলিয়ে পেস আক্রমণ একদমই ধারহীন হয়ে পড়েছে।
ব্লেসিং মুজারাবানি এবং বৈভব অরোরার মতো বোলাররা রান নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হচ্ছেন। প্রথম ম্যাচে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে ২২০’র বেশি রান তুলেও তা ডিফেন্ড করতে পারেনি কেকেআর। সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের বিরুদ্ধেও তারা ২২৬ রান হজম করে। এমনকি বরুণ চক্রবর্তীর মতো স্পিনাররাও রান আটকাতে হিমশিম খাচ্ছেন । পঞ্জাব কিংসের বিরুদ্ধে পরিত্যক্ত ম্যাচ থেকে কেকেআর মরসুমের প্রথম পয়েন্ট পেলেও দলের মূল সমস্যা অর্থাৎ দুর্বল বোলিং কিন্তু থেকেই গেছে। এখন পাথিরানার মতো মূল বোলাররা কত দ্রুত ফিরতে পারেন, তার ওপরই নির্ভর করছে নাইটদের আইপিএল অভিযান।


