ভূমিহীন প্রায় অর্ধেক ভারত

গ্রামীণ ভারতের জমির ছবিটা স্পষ্ট—অল্প কয়েকজনের হাতে জমি, আর বিপুল মানুষের কাছে কিছুই নেই। নতুন গবেষণায় উঠে এল ভয়াবহ বৈষম্যের.....

গ্রামীণ ভারতের জমির ছবিটা স্পষ্ট—অল্প কয়েকজনের হাতে জমি, আর বিপুল মানুষের কাছে কিছুই নেই। নতুন গবেষণায় উঠে এল ভয়াবহ বৈষম্যের চিত্র: দেশের গ্রামে শীর্ষ ১০ শতাংশ পরিবার দখলে রেখেছে মোট জমির ৪৪ শতাংশ, আর প্রায় ৪৬ শতাংশ পরিবার একেবারেই ভূমিহীন।

প্যারিসভিত্তিক বিশ্ব বৈষম্য গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাম্প্রতিক সমীক্ষা গ্রামীণ ভারতের অর্থনৈতিক কাঠামো নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। রিপোর্ট বলছে, জমির মালিকানা এমনভাবে কেন্দ্রীভূত হয়েছে যে একটি গ্রামের সবচেয়ে বড় জমির মালিক গড়ে প্রায় ১২ শতাংশ জমি একাই নিয়ন্ত্রণ করেন। এমনকি প্রায় ৩.৮ শতাংশ গ্রামে এক ব্যক্তি বা পরিবার অর্ধেকের বেশি জমির মালিক।

এই বৈষম্যের শিকড় বহু পুরনো—ঔপনিবেশিক জমিদারি প্রথা, বাজারভিত্তিক কৃষির বিস্তার এবং সামাজিক শ্রেণিভিত্তিক বিভাজন মিলিয়ে তৈরি হয়েছে এই চিত্র। রিপোর্টে স্পষ্ট বলা হয়েছে, জমিদারি শাসিত এলাকায় বৈষম্য আরও বেশি, কারণ সেখানে ছোট কৃষকের সংখ্যা কমে গিয়ে বড় জমির মালিকদের দাপট বেড়েছে।

পরিসংখ্যান আরও গভীরে গেলে চিত্র আরও উদ্বেগজনক। দেশের গ্রামীণ জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকের হাতে এক চিলতে জমিও নেই। অথচ শীর্ষ ৫ শতাংশের হাতে রয়েছে প্রায় ৩২ শতাংশ জমি, আর শীর্ষ ১ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে প্রায় ১৮ শতাংশ জমি।

রাজ্যভিত্তিক বৈষম্যও চোখে পড়ার মতো। বিহার ও পাঞ্জাবের মতো রাজ্যে এমন গ্রাম রয়েছে যেখানে একক জমির মালিকের দখল ৫০ শতাংশেরও বেশি। অন্যদিকে কেরল, তামিলনাড়ু ও পশ্চিমবঙ্গেও বৈষম্যের সূচক উচ্চস্তরে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু জমির অভাব নয়—সমস্যার কেন্দ্রে রয়েছে জমির অসম বণ্টন। বাজার, রাস্তা, রেলপথ বা ব্যাংকের উপস্থিতি থাকলেও এই বৈষম্য কমেনি, বরং অনেক ক্ষেত্রে বেড়েছে। অর্থাৎ উন্নয়ন পরিকাঠামো তৈরি হলেও জমির মালিকানার কাঠামো বদলায়নি।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক সামনে এসেছে—যেসব এলাকায় তফসিলি জাতির জনসংখ্যা বেশি, সেখানে ভূমিহীনতার হার বেশি এবং সেই কারণেই বৈষম্যও তীব্র।

আরও পড়ুন