পাহাড় পেরিয়ে বিশ্বাসের টান। চলতি বছরেই জম্মু–কাশ্মীরের শ্রী মাতা বৈষ্ণোদেবী মন্দির-এ ভক্তসংখ্যা ছুঁয়ে ফেলল ২৩ লক্ষের গণ্ডি। গত বছরের তুলনায় প্রায় ২ লক্ষ বেশি দর্শনার্থী—পরিসংখ্যানই বলছে, ধর্মীয় পর্যটনে নতুন রেকর্ড গড়ছে এই তীর্থক্ষেত্র।
শ্রাইন বোর্ডের সিইও সচিন কুমার বৈশ্য জানিয়েছেন, বছরের এই সময় পর্যন্তই ২৩ লক্ষ যাত্রী মন্দিরে পুজো দিয়েছেন। দেশ-বিদেশ থেকে আসা ভক্তদের জন্য পরিষেবা আরও উন্নত করা হচ্ছে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
এই মন্দিরের প্রশাসন রয়েছে শ্রাইন বোর্ডের হাতে, যার প্রধান জম্মু–কাশ্মীরের লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিনহা। ১৯৮৬ সাল থেকে এই ব্যবস্থাপনাই তীর্থযাত্রার রূপরেখা বদলে দিয়েছে—অবকাঠামো, নিরাপত্তা, পরিষেবা—সব ক্ষেত্রেই এসেছে আধুনিকতা।
ত্রিকূট পাহাড়ের প্রায় ৫,২০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এই মন্দির, যেখানে দেবী বৈষ্ণোদেবীকে মহাকালী, মহালক্ষ্মী ও মহাসরস্বতীর সম্মিলিত রূপ হিসেবে পূজা করা হয়। জম্মু শহর থেকে প্রায় ৪৩ কিলোমিটার দূরে, আর রিয়াসি জেলার সদর থেকে প্রায় ২৯ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে পৌঁছতে হয় এই তীর্থস্থানে।
ইতিহাস বলছে, প্রথমদিকে এই স্থান ছিল স্থানীয় জনজাতির পূজাস্থল—‘ত্রিকূটা দেবী’ নামে পরিচিত। সময়ের সঙ্গে, বিশেষ করে দ্বাদশ শতকের পর সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনে এই দেবী পরিচিতি পায় ‘বৈষ্ণোদেবী’ নামে। উনবিংশ শতকেও ইউরোপীয় ভ্রমণকারীরা ‘ত্রিকূটা মাই’ নামেই উল্লেখ করেছেন এই দেবীকে।
কঠিন পাহাড়ি পথ, ঘন জঙ্গল—সব বাধা সত্ত্বেও ধীরে ধীরে এই তীর্থযাত্রা জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ইতিহাসে উল্লেখ আছে, ৯৯৬ খ্রিস্টাব্দে জম্মুর রাজা যশ দেব এখানে পুজো দিতে আসেন। শিখদের দশম গুরু গুরু গোবিন্দ সিং-এরও এই তীর্থ দর্শনের কথা প্রচলিত রয়েছে।
আজ সেই ঐতিহ্যই পরিণত হয়েছে আধুনিক ধর্মীয় পর্যটনের অন্যতম বড় কেন্দ্র হিসেবে। সংখ্যার বিচারে যেমন বৃদ্ধি, তেমনই বিশ্বাসের ধারায়—বৈষ্ণোদেবী আবার প্রমাণ করল, পাহাড় যতই কঠিন হোক, ভক্তির পথে ভিড় কমে না।


