বিজেপি দু’মুখো সাপ, নির্বাচনের সময় একটা ছোবল দেয়,আর নির্বাচনের পর আর একটা ছোবল দেয়।’ এভাবেই শুক্রবার নির্বাচনী জনসভা থেকে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার ভোটের প্রচারে মমতা প্রথম জনসভা করেন উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগরে। তারপর বসিরহাট। দিনের শেষে জনসভা করেন মেদিনীপুরে। নির্বাচনী জনসভার মঞ্চ থেকে মমতা বলেন, ‘এত অত্যাচার, এত অনাচার, এত ব্যাভিচার!
যদি কোনও অনুপ্রবেশকারী ঢোকে তা হলে অমিত শাহের পদত্যাগ করা উচিত। এটা অনুপ্রবেশকারীদের কারখানা নয়, এটা মানবিক মানুষের আশ্রয়ের ঠিকানা। ওরা বলে এক। করে আর এক। মিথ্যা কথার কারখানা। ভাঁওতা দেওয়ার কারখানা। এসআইআরের নাম কাটার কারখানা। দাম বাড়াবার কারখানা। ওরা মানুষের যন্ত্রণা। বাংলাকে করে লাঞ্ছনা, বাংলাকে করে বঞ্চনা। তাই বলি বিজেপিকে ভোট দেবেন না।’
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, ‘বিজেপির প্ল্যান এনআরসি করবে। ডিলিমিটেশন করে বাংলাকে তিন টুকরো করে দেবে। জল্লাদ, ধর্ষণকারীদের হাত থেকে বাংলাকে রক্ষা করব। দিল্লির জমিদার, জোতদারদের বিরুদ্ধে লড়তে হবে, তৃণমূলকে একটা ভোট দেবেন, আর বদলা নেবেন’। বলেন, ‘সকাল থেকে স্লো কাউন্টিং করে রটাবে।
বিজেপির সিটগুলো আগে দেখাবে, আপনাদের সিটগুলো পরে দেখাবে। যাতে আপনারা তাড়াতাড়ি বাড়ি চলে যান। ওটা দখল করে নেবে। এটা করতে দেবেন না। কাউন্টিংয়ের রেজ়াল্ট নিয়ে তবে বেরোবেন এজেন্টরা। তার আগে বেরোবেন না।’
উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগরের জনসভায় মমতা বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের রায় ছিল কাগজপত্র দিয়ে ট্রাইবুনালে আবেদন করতে পারবেন। কিন্তু এখনও ট্রাইবুনালের কাজই শুরু হয়নি। তার মধ্যে চৈত্রমাসের সেল হয়ে গিয়েছে । ৯০ লক্ষ মানুষের নাম বাদ গিয়েছে, তার মধ্যে নাকি ৬০ লক্ষই হিন্দু, আর ৩০ লক্ষ মুসলমান।
খবরের কাগজে দেখলাম। এই বিষয়ে ব্লক স্তরে সমীক্ষার পর তৃণমূলের তরফে যা বলার বলা হবে।’ শুক্রবার কলকাতায় নির্বাচনী ইস্তেহার প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আগাগোড়া মিথ্যাচারের অভিযোগে পালটা আক্রমণ শানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বারাসতের কাছারি ময়দানের জনসভা থেকে মমতা বলেন, ‘ভোটের আগে বলেছিল সবার অ্যাকাউন্টে ১৫ লাখ করে ঢুকবে, পেয়েছেন? এখন এসেছে মিথ্যে কথার ঝুলি নিয়ে। মিথ্যের ফুলঝুড়ি নিয়ে। এরা কোকিলের মতো ভোটের সময় আসে, মিথ্যে বলে, ফুরুৎ করে পালিয়ে যায়। রাজস্থান, দিল্লি, অসমে ছেলেমেয়েদের উপর অত্যাচার করছে ডবল ইঞ্জিন সরকার। লজ্জা করে না! এখন বাংলার মাটিতে এসে বলছে সুনার বাংলা গড়বে। ওদের জিভ টেনে ছিঁড়ে নেওয়া উচিত মানুষের গণতন্ত্রের মাধ্যমে। দাঙ্গা করে ক্ষমতায় এসেছে। ঠাকুমার ঝুলি নয়, মিথ্যের ফুলঝুড়ি নিয়ে ছুটছে।’
গতকাল হলদিয়ায় মোদির মাছ উৎপাদন প্রসঙ্গেও পালটা জবাব দেন মমতা। ব্রিগেডে চিকেন প্যাটিস হকারকে মারধরের প্রসঙ্গ টেনে এদিন মমতা বলেন, ‘ভোটের পর সব বদলা নেব। খুনের বদলে খুন নয়। আইনত অ্যাকশন নেব।’ কটাক্ষের সুরে মমতা জানান, ‘বাচ্চা ছেলেরা অন্যায় করলে কানমোলা, বকাবকি দেয় মা-বোনেরা। বুড়ো খোকারা যদি এত মানুষের নাম কেটে দেয়, জোর করে ইডি সিবিআই দিয়ে ভোট করায়, তার বদলা নিতে গণতন্ত্রের থাপ্পড় দেবেন।’
নাম না করে মোদি-শাহকে ‘কানাবাবু’ বলে কড়া আক্রমণ মমতার। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিজেপির নির্বাচনী সংকল্প পত্র প্রকাশ করার পরেই বিজেপিকে আক্রমণ শানিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলছেন, আমরা বিজেপির মতো মিথ্যে কথা বলি না। এছাড়াও তিনি ১৫ লক্ষ টাকা নিয়েও এদিন প্রশ্ন তোলেন বারাসতের সভা থেকে। এমনকি তিনি আশ্বাসও দেন যে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার সারা জীবন পাবেন রাজ্যের মহিলারা। উল্লেখ্য তিনি এর আগেও বারবার বলেছেন এই একই কথা। যে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার সারা জীবন পাওয়া যাবে। কিছুদিন আগে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকাও বৃদ্ধি করেছেন তিনি। বর্তমানে রাজ্যের মহিলারা যথাক্রমে ১ হাজার ৫০০ ও ১ হাজার ৭০০ টাকা করে পেয়ে থাকেন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের অধীনে। এ ছাড়াও রাজ্যের বেকার যুবক ও যুবতীদের জন্য মাসিক ১ হাজার ৫০০ টাকার ভাতাও চালু করেছেন তিনি।


