অনুপ্রবেশ নিয়ে তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ অমিত শাহ’র

অনুপ্রবেশকারী পছন্দ কি? অনুপ্রবেশকারীদের বের করে দেওয়া উচিত কি না? মমতা দিদি বের করবেন কি? ভাইপো বের করবে কি? বের.....

অনুপ্রবেশকারী পছন্দ কি? অনুপ্রবেশকারীদের বের করে দেওয়া উচিত কি না? মমতা দিদি বের করবেন কি? ভাইপো বের করবে কি? বের করবে তো ভারতীয় জনতা পার্টিই করবে। আমরা পুরো বাংলা আর দেশ থেকে অনুপ্রবেশকারীদেরকে বেছে বেছে বের কাজ করব। ২৩ এপ্রিল পদ্ম চিহ্নে ভোট দিন। জোরে বোতাম চাপুন, যাতে দিল্লিতে শব্দ যায়। যাতে অনুপ্রবেশকারীদের কারেন্ট লাগে।’ শনিবার বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের জন্য একের পর এক জনসভা থেকে এভাবেই অনুপ্রবেশকারী ইস্যুতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বাংলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃনমূল সরকারের আমলে সীমান্ত থেকে বিপুল সংখ্যক বেআইনি অনুপ্রবেশকারী ঢুকে পড়েছে বলে অভিযোগ করার পাশাপাশি বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় এলে সীমান্ত সুরক্ষায় কী কী করা হবে তার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। অমিত শাহ বলেন, ‘আমরা অনুপ্রবেশ বন্ধে দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ করব। অনেক বছর ধরে নরেন্দ্র মোদি সরকার এই চেষ্টা করছে।

 

কিন্তু সীমান্তকে ১০০ শতাংশ সুরক্ষিত করার জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকার আমাদের জমি দিচ্ছে না। আমরা পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় এলে ৪৫ দিনের মধ্যে ভারত সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের যতটা ফেন্সিংয়ের জন্য জমি দরকার, সেটা দেওয়ার কাজ সম্পূর্ণ করবে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। নদী-নালায় পেট্রোলিংয়ের ব্যাপারেও ভারত সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থা আমরা করব।’ এর পাশাপাশি মমতার বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ করে শাহ বলেন, ‘মমতাদিদি ভিকটিম কার্ড খেলেন। কখনও সত্যি-মিথ্যা পট্টি পা, মাথায় বাঁধেন। এই ভোটে যেখানে ইচ্ছা পট্টি বাঁধুন, বাংলাবাসী আপনাকে ভোট দেবেন না। ওরা বলে বেড়াচ্ছে, মোদীজি দিল্লি থেকে শাসন করবে। আমার কথা শুনে রাখুন, বাংলার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী যিনি হবেন, তিনি এখানে জন্মগ্রহণ করা, বাংলায় কথা বলা একজন বিজেপি নেতাই হবেন। মমতাদিদি আপনি মহিলাদের জন্য কিছু করেননি। দিদিরা প্রস্তুত থাকুন, আমাদের সরকার হলে আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৩০০০ টাকা প্রবেশ করবে প্রতি মাসে। মহিলাদের জন্য সংরক্ষণ হবে ৩৩ শতাংশ। রাজ্যের সব বাসে মা-বোনদের টিকিট কাটতে হবে না। সব কৃষককে এখন ৬০০০ টাকা দেন মোদীজি।

 

বিজেপি এখানে সরকার গড়লে কৃষকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৯০০০ টাকা যাবে। ধানের এমএসপি ৩১০০ টাকা করা হবে। যুবকদের অ্যাকাউন্টে ৩০০০ টাকা করে দেওয়া হবে। সরকারি কর্মীরা সপ্তম বেতন কমিশনের সুবিধা পাবেন। যে যুবকেরা দুর্নীতির কারণে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যোগ দিতে পারেননি, তাঁদের বয়সের ছাড় দেওয়া হবে। মমতাদিদি, আপনি মহিলা মুখ্যমন্ত্রী, তাও আরজি কর, সন্দেশখালির মতো ঘটনা হয়! মমতাদিদি বলেন, সন্ধ্যা ৭টার পরে কারও বাইরে যাওয়া উচিত না। বিজেপির সরকার গড়ুন, রাত ১টায় মহিলারা বাইরে নিরাপদে ঘুরতে পারবেন। কারও চার স্ত্রী রয়েছেন। তা কি থাকা উচিত? দিদিরা বলুন। বিজেপির সরকার করুন, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি আনব। সকলের জন্য সমান বিধি হবে। ৭০০০ সংস্থা বাংলা ছেড়ে চলে গিয়েছে। মোদীজি ফিরিয়ে আনবেন। রবীন্দ্রনাথের সোনার বাংলা গড়ব।’

আরও পড়ুন