আমরা বাঙালিদের সংখ্যালঘু হতে দেব না, আবেদন মোদির

পশ্চিমবঙ্গে আমরা বাঙালিদের সংখ্যালঘু হতে দেব না আমরা। সকলে একজোট হয়ে ভোট দিতে যান। সরকার পরিবর্তন করুন। আপনাদের একটি ভোট.....

পশ্চিমবঙ্গে আমরা বাঙালিদের সংখ্যালঘু হতে দেব না আমরা। সকলে একজোট হয়ে ভোট দিতে যান। সরকার পরিবর্তন করুন। আপনাদের একটি ভোট আমাদের কাছে আশীর্বাদ।’ শনিবার পূর্ব বর্ধমানের নির্বাচনী জনসভা থেকে বাংলার মানুষের কাছে এমন আহ্বান জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শনিবার পূর্বস্থলীর নির্বাচনী জনসভা থেকে রাজ্য সরকারকে তীব্র আক্রমণ করে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, বাংলায় বিজেপির সরকার আসা মানেই দুর্নীতির দিন শেষ। এদিন প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতি দমনে ‘শ্বেতপত্র’ প্রকাশের হুঁশিয়ারি দিয়ে তৃণমূলের ‘ভয়ের রাজত্ব’ খতম করার ডাক দিয়েছেন। পূর্বস্থলীর জনসভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আপনাদের ছ’টি গ্যারান্টি দিয়েছিলাম। এখন সেই প্রতিশ্রুতিগুলি পূরণের সময় এসেছে।

 

তৃণমূলের নির্মম সরকার রাজ্যে যে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করেছে, আমার গ্যারান্টি সেই ভয় সরিয়ে মানুষের মনে ভরসা ফিরিয়ে আনবে।’ একইসঙ্গে মোদির গ্যারান্টি, সপ্তম পে কমিশনের সব সুবিধা পাবেন এখানকার রাজ্য সরকারি কর্মীরা। বাংলা থেকে যাঁরা বাইরে কাজে যান সবাইকে দেখা হবে। সরকারি খালি পদ দ্রুত পূরণ করা হবে। অন্য রাজ্যের মতো রোজগার মেলা করা হবে। তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্যে তৃণমূলের আমলে সাধারণ মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে এবং উন্নয়নের টাকা লুট করা হয়েছে। এদিন মোদির বক্তৃতার অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল দুর্নীতির বিচার। তিনি ঘোষণা করেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে তৃণমূল সরকারের আমলের যাবতীয় দুর্নীতির খতিয়ান জনসমক্ষে আনতে একটি ‘শ্বেতপত্র’ জারি করা হবে।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তৃণমূলের সব সিন্ডিকেট এবং দুর্নীতিগ্রস্তদের হিসাব করা হবে। গত ১৫ বছরে রাজ্যে কোথায় কী দুর্নীতি হয়েছে, কার পকেটে টাকা গেছে, তার পাই-পাই হিসাব নেওয়া হবে।’ তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে রাজ্যের প্রতিটি সরকারি কাজে স্বচ্ছতা ফেরাতে বাধ্যতামূলক ভাবে টেন্ডার প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে, যাতে কোনো সিন্ডিকেট রাজ না চলতে পারে। তৃণমূল সরকারকে কার্যত তুমুল নিশানা করে মোদির আক্রমণ, ‘আলুচাষিদের সর্বনাশ করে দিয়েছে তৃণমূল সরকার। বিজেপি এদের লুঠ পাঠের আসরকে নষ্ট করবে।’ একইসঙ্গে মহিলাদের নিরাপত্তার গ্যারান্টি দিয়ে মোদির দাবি, ‘বাংলার মহিলাদের ৩০০০ টাকা করে দেব। বাংলার সব মেয়ে সর্বত্র যে কোনও সময় বেরোতে পারবেন। মহিলাদের সুরক্ষা, নিরাপত্তায় বিজেপি সবসময় নিশ্চিত করবে।’ রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মোদী বলেন, ‘বাংলায় আজ ভয়ের রাজত্ব চলছে।

 

সাধারণ মানুষ কথা বলতে ভয় পান। কিন্তু মোদীর গ্যারান্টি এই পরিস্থিতি বদলে দেবে। আমরা ভয়মুক্ত এবং দুর্নীতিমুক্ত বাংলা গড়ার সংকল্প নিয়েছি।’ প্রধানমন্ত্রীর দাবি, কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা থেকে বাংলার মানুষকে বঞ্চিত করে রাখা হয়েছে, যার যোগ্য জবাব মানুষ ব্যালট বাক্সে দেবে। ভোট যত এগোচ্ছে, ততই রাজনৈতিক তরজা তীব্র হচ্ছে। এই আবহেই হুমায়ুন কবীরকে ঘিরে বিতর্ক প্রসঙ্গে সরব হন প্রধানমন্ত্রী। যদিও সরাসরি নাম উল্লেখ করেননি, তবুও ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘ভোট এগোতেই কিছু দল ভুয়ো ভিডিও বানিয়ে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। আধুনিক প্রযুক্তিকে অপব্যবহার করা হচ্ছে।’ তিনি দাবি করেন, দেশের অন্য রাজ্যেও একই ধরনের কৌশল নেওয়া হয়েছে এবং সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। মোদির কথায়, ‘এই ধরনের বিভ্রান্তিতে পা দেবেন না। সত্য যাচাই করে তবেই বিশ্বাস করুন।’

আরও পড়ুন