পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের বিদায় নিশ্চিত! মোদি

রবিবার বেলা ১টা নাগাদ কাওয়াখালির ময়দানে আয়োজিত জনসভায় এসে পৌঁছান তিনি। সভায় মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখে রীতিমতো উচ্ছ্বসিত হয়ে.....

রবিবার বেলা ১টা নাগাদ কাওয়াখালির ময়দানে আয়োজিত জনসভায় এসে পৌঁছান তিনি। সভায় মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখে রীতিমতো উচ্ছ্বসিত হয়ে পড়েন মোদি। এরপরই তৃণমূল কংগ্রেসকে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানিয়ে তিনি বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের বিদায় নিশ্চিত।’
মাঠজুড়ে উপচে পড়া ভিড় দেখে মোদি বলেন, ‘শনিবারের ১৫ কিলোমিটার রোড শো থেকে শুরু করে রবিবারের এই জনসভা— সর্বত্র মানুষের যে উন্মাদনা আমি দেখছি, তাতে স্পষ্ট যে সাধারণ মানুষ এবার পরিবর্তন চাইছেন। এমনকি গুজরাটেও আমি এত বিশাল সমাবেশ খুব কমই দেখেছি।’

এরপরই রাজ্য সরকারের কড়া সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী যুব সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘তৃণমূলের ১৫ বছরের শাসনে বাংলা কেবল দুর্নীতি আর স্থবিরতা দেখেছে। আজ যারা নতুন ভোটার, ১৫ বছর আগে তারা হয়তো প্রথম শ্রেণিতে পড়তে। আজ আপনাদের হাতেই রাজ্যের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের দায়িত্ব। তৃণমূল কোনও কাজ করেনি, শুধু সিন্ডিকেট আর কাটমানি সংস্কৃতিকে প্রশ্রয় দিয়েছে।’

উত্তরবঙ্গ বিজেপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। পূর্ববর্তী লোকসভা নির্বাচনেও এই অঞ্চলে গেরুয়া শিবিরের ফল ছিল আশাব্যঞ্জক। সেই ধারা বজায় রাখতেই শিলিগুড়ির মঞ্চ থেকে উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দেন মোদি। কাঠফাটা রোদ উপেক্ষা করে হাজার হাজার মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণকে ‘বিজেপির জয়ের ইঙ্গিত’ হিসেবেই ব্যাখ্যা করেছেন তিনি।

 

 

তিনি আরও যোগ করেন, বিজেপি সরকার নিরন্তর চেষ্টা চালাচ্ছে এই করিডরের সুরক্ষা ও পরিকাঠামোর উন্নতির জন্য।
তৃণমূলের উন্নয়ন ও প্রশাসনিক নীতির সমালোচনা করে মোদী বলেন, “উত্তরবঙ্গে তৃণমূলের নীতি হলো উপেক্ষা আর ভয় দেখানো। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মানুষ আর এই সংস্কৃতি সহ্য করবে না।” আসন্ন নির্বাচনের ফলের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, “৪ মে-র পর যখন নতুন সরকার আসবে, তখন সব বদলে যাবে।

 

অনেক হয়েছে, আর ভয় নয়, এবার ভরসা চাই। এটাই বিজেপির মন্ত্র।” পাশাপাশি তৃণমূলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রী জানান, লুটেরাদের সব হিসাব দিতে হবে।
শনিবারই পূর্ব বর্ধমান, মুর্শিদাবাদ ও দক্ষিণ দিনাজপুরে সভা সেরেছেন মোদি। রবিবারের শিলিগুড়ির সভা থেকে তিনি উত্তরবঙ্গের মানুষের ভাবাবেগ এবং নিরাপত্তার দিকটিকে সরাসরি স্পর্শ করার চেষ্টা করলেন। গত নির্বাচনগুলিতে উত্তরবঙ্গে বিজেপির ফল আশাব্যঞ্জক হওয়ায়, এই গড় ধরে রাখতে মোদির প্রচারকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

আরও পড়ুন