মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত ভূরাজনীতিতে নতুন মোড়। হরমুজ প্রণালী খোলা রাখা এবং ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত ছাড়ার প্রশ্নে তীব্র মতভেদের জেরে মুখ থুবড়ে পড়ল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক। পাকিস্তানে সপ্তাহান্তে হওয়া এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় দীর্ঘ ম্যারাথন বৈঠকের পরও কোনও সমঝোতায় পৌঁছতে পারেনি দুই পক্ষ। মার্কিন পক্ষের স্পষ্ট বার্তা ছিল— হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে হবে এবং ইরানকে তার উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভাণ্ডার ত্যাগ করতে হবে। এই দুই ইস্যুতে ছাড় না পেলে কোনও চুক্তি সম্ভব নয়।
অন্যদিকে ইরান জানিয়ে দেয়, চূড়ান্ত সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত তারা প্রণালী খুলবে না। ফলে অচলাবস্থা আরও গভীর হয়। একইসঙ্গে ইরানের দাবি ছিল— মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে এবং জব্দ করা বিপুল অর্থ ছেড়ে দিতে হবে। কিন্তু মূল দুই ইস্যুতে অগ্রগতি না হওয়ায় সেই দাবিও কার্যত আটকে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, আলোচনার ধরণেও বড় ফারাক রয়েছে। অতীতে ইরান দীর্ঘ, জটিল আলোচনার মাধ্যমে চুক্তিতে পৌঁছতে আগ্রহী ছিল— যেমন ইরান পরমাণু চুক্তি ২০১৫ করতে প্রায় দু’বছর সময় লেগেছিল।
কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘ আলোচনায় আগ্রহী নন বলেই মনে করছেন কূটনীতিকরা। এদিকে হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তীব্র অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের তেল এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। ফলে এই অচলাবস্থা শুধু কূটনৈতিক নয়, অর্থনৈতিক চাপও বাড়াচ্ছে— বিশেষ করে মার্কিন প্রশাসনের উপর। সব মিলিয়ে, পারমাণবিক কর্মসূচি ও কৌশলগত জলপথ— এই দুই ইস্যুতে অনড় অবস্থানের জেরে আপাতত ভেঙে পড়েছে আলোচনা। তবে পরিস্থিতি যে এখানেই থেমে থাকবে না, তা স্পষ্ট— কারণ হরমুজ ও ইরানের পরমাণু প্রশ্ন এখন বিশ্বরাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু।


