রাজনীতি নয়, বিশ্বকাপে খেলবেই ইরান— উত্তেজনার মাঝেই স্পষ্ট বার্তা ফিফা সভাপতির

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা, যুদ্ধের আবহ, কূটনৈতিক টানাপোড়েন— সবকিছুর মাঝেও একেবারে স্পষ্ট বার্তা দিল বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষ সংস্থা। ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলবেই ইরান।.....

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা, যুদ্ধের আবহ, কূটনৈতিক টানাপোড়েন— সবকিছুর মাঝেও একেবারে স্পষ্ট বার্তা দিল বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষ সংস্থা। ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলবেই ইরান। জিয়ান্নি ইনফান্তিনো সোজাসাপটা জানিয়ে দিলেন— ফুটবলকে রাজনীতি থেকে আলাদা রাখতেই হবে, আর সেই কারণেই যোগ্যতা অর্জন করা দলকে আটকানোর প্রশ্নই ওঠে না।
এক আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সম্মেলনে ইনফান্তিনো বলেন, “ইরান নিশ্চিতভাবেই আসছে। আমরা আশা করি, তখন পরিস্থিতি শান্ত থাকবে— সেটাই সবার জন্য ভালো। কিন্তু ইরানকে খেলতেই হবে, তারা তাদের দেশের প্রতিনিধিত্ব করে, তারা যোগ্যতা অর্জন করেছে, খেলোয়াড়রাও খেলতে চায়।” এই বক্তব্যেই স্পষ্ট, রাজনৈতিক চাপ বা নিরাপত্তা উদ্বেগ— কোনওটাই ফিফার সিদ্ধান্ত বদলাতে পারছে না।

 

এবারের বিশ্বকাপ ঘিরে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল আমেরিকা-ইজরায়েল সংঘাতের প্রেক্ষাপটে। এমনকি ইরান শিবিরের তরফে ম্যাচ বয়কটের কথাও ভাবা হয়েছিল এবং যুক্তরাষ্ট্রের বদলে অন্য দেশে ম্যাচ আয়োজনের দাবি উঠেছিল। কিন্তু সেই প্রস্তাব খারিজ করে দেয় ফিফা। ফলে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী গ্রুপ পর্যায়ের তিনটি ম্যাচই যুক্তরাষ্ট্রে খেলবে ইরান— লস অ্যাঞ্জেলেসে দুটি, সিয়াটলে একটি, আর টুর্নামেন্ট চলাকালীন দলের বেস হবে অ্যারিজোনার টুসনে।
ফেব্রুয়ারির শেষের সংঘাতের পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়— ধারাবাহিক বিমান হামলা, পাল্টা আঘাত, হরমুজ প্রণালিতে বিধিনিষেধ— সব মিলিয়ে উত্তেজনা তুঙ্গে ওঠে। যদিও ৮ এপ্রিল থেকে এক নড়বড়ে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে, তবুও ভূ-রাজনৈতিক চাপ এখনও কাটেনি।

 

এই প্রেক্ষাপটেই ইনফান্তিনো আবার মনে করিয়ে দিয়েছেন ফিফার অবস্থান— “খেলাধুলা রাজনীতির বাইরে থাকা উচিত। যদি কেউ সেতুবন্ধন তৈরি করতে না চায়, আমরা সেই কাজটা করছি।” অর্থাৎ, সংঘাতের মাঝেও ফুটবলকে একতার মঞ্চ হিসেবেই দেখতে চাইছে ফিফা।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ হবে ইতিহাসের সবচেয়ে বড়— ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এ প্রথমবার অংশ নেবে ৪৮টি দল। ১১ জুন শুরু হতে চলা এই টুর্নামেন্ট যৌথভাবে আয়োজন করছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো। আর সেই মঞ্চেই সব বিতর্ক পেরিয়ে মাঠে নামবে ইরান— এটাই এখন নিশ্চিত।

আরও পড়ুন