‘চায়নাম্যাক্সিং’ ট্রেন্ডে মজেছে বিশ্ব: চিনের সফট পাওয়ারের জয়জয়কার

বর্তমানে বিশ্বের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ‘চায়নাম্যাক্সিং’ বা চিনা জীবনধারা অনুসরণের এক অদ্ভুত উন্মাদনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লক্ষ.....

বর্তমানে বিশ্বের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ‘চায়নাম্যাক্সিং’ বা চিনা জীবনধারা অনুসরণের এক অদ্ভুত উন্মাদনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ মানুষ চিনা স্টাইলে গরম জল পান করা, গোজি বেরি মেশানো পানীয় খাওয়া কিংবা ঘরে চটি পরা এবং চিনের আধুনিক পরিকাঠামোর প্রশংসা করে ভিডিও শেয়ার করছেন।

 

চিনের অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক উত্থানের পাশাপাশি এই নতুন সাংস্কৃতিক প্রভাব বা ‘সফট পাওয়ার’ এখন বিশ্বজুড়ে সমাদৃত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, চিনা পণ্যের উপযোগিতা এবং বিনোদনমূলক বৈশিষ্ট্যের কারণেই এই বিশ্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে। লাবুভু টয় থেকে শুরু করে ‘ব্ল্যাক মিথ: উগং’-এর মতো ভিডিও গেম এবং ‘নে ঝা ২’-এর মতো ব্লকবাস্টার অ্যানিমেশন সিনেমাগুলো এখন আন্তর্জাতিক মহলে অত্যন্ত জনপ্রিয়। এমনকি চিনা র‍্যাপার ‘লানলাও’-এর ক্যানটোনিজ গানও ভাষা না বুঝেই বিশ্বজুড়ে মানুষ শুনছেন এবং উপভোগ করছেন।

 

তবে এই ট্রেন্ড নিয়ে চিনা-আমেরিকানদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকের মতে, এই সাংস্কৃতিক অনুকরণ অনেক সময় অতীতের বর্ণবাদ বা বৈষম্যের তিক্ত অভিজ্ঞতাকে আড়াল করে দেয়। করোনা মহামারীর সময় চিনা বংশোদ্ভূতরা যে লাঞ্ছনার শিকার হয়েছিলেন, সেই স্মৃতি অনেকের মনেই এখনও টাটকা।

 

তাই কেবল ফ্যাশন হিসেবে চিনা সংস্কৃতিকে গ্রহণ করাই সব সমস্যার সমাধান নয় বলে তারা মনে করেন। যদিও চিনের সরকারি প্রচেষ্টায় পরিচালিত বিভিন্ন প্রকল্প পশ্চিমা দেশগুলোতে নানা বিতর্কের মুখে পড়েছে, কিন্তু বর্তমানের এই অনলাইন মেম বা ভাইরাল সংস্কৃতি চিনের গল্পকে আরও সার্থকভাবে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে। এমনকি আম্যাপ-এর মতো চিনা ডিজিটাল ম্যাপের খুঁটিনাটি তথ্যও এখন বিশ্বজুড়ে ব্যবহারকারীদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। শেষ পর্যন্ত চিনা কূটনীতিবিদরা মনে করছেন, এই ক্রমবর্ধমান সাংস্কৃতিক দৃশ্যমানতা দীর্ঘমেয়াদে চিনের প্রতি বিশ্বের ভুল ধারণা কমিয়ে আনতে সাহায্য করবে।

আরও পড়ুন