তৃণমূলের সিন্ডিকেটকে শেষ সুযোগ দিচ্ছি, থানায় আত্মসমর্পণ করো, ৪ মে-র পর কেউ ছাড় পাবে না, হুঁশিয়ারি মোদির

তৃণমূলের সিন্ডিকেটকে শেষ সুযোগ দিচ্ছি, থানায় আত্মসমর্পণ করো। কারণ ৪ মে-র পর কেউ ছাড় পাবে না। তৃণমূলের গুন্ডারা কান খুলে.....

তৃণমূলের সিন্ডিকেটকে শেষ সুযোগ দিচ্ছি, থানায় আত্মসমর্পণ করো। কারণ ৪ মে-র পর কেউ ছাড় পাবে না। তৃণমূলের গুন্ডারা কান খুলে শুনে নাও, এই সব চলবে না’। বাংলার বিধানসভা নির্বাচন উপলক্ষে রবিবাসরীয় সকালে বাঁকুড়ার বড়জোড়া থেকে নির্বাচনী জনসভায় দাঁড়িয়ে এভাবেই হুঁশিয়ারি দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

 

বাঁকুড়ার বড়জোড়া এবং বিষ্ণুপুরের জনসভা থেকে বারে বারে প্রধানমন্ত্রী তুলে ধরেন বাংলায় তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগ। মোদি বলেন, ‘তৃণমূলের দুর্নীতির জন্য মহিলাদের সরকারি সুবিধা মেলে না। বিহার, ওড়িশা, অসম, ত্রিপুরার মহিলারা যা পান, এখানে তৃণমূলের নির্মম সরকার করতে দেয় না। বিজেপির সরকার হলে গরিবদের রেশন মিলবে, কেউ কেড়ে নিতে পারবে না। আবাস যোজনায় দেড় লাখ টাকা আর্থিক সাহায্য মিলবে। এখানে আয়ুষ্মান ভারত কার্যকর করেনি সরকার।

 

বিজেপি ক্ষমতায় এলেই ৫ লক্ষ টাকার স্বাস্থ্যবিমা পাবে। কারও কিডনির সমস্যা হলে বিনা পয়সায় ডায়ালিসিস মিলবে। মাতৃশক্তি ভরসা কার্ডে মাসে ৩০০০, বছরে ৩৬ হাজার টাকা পাবেন মহিলারা। এখানে বিজেপি সরকার হলে অন্তঃসত্ত্বা মহিলাদের ২১ হাজার টাকা দেওয়া হবে। সন্তান হলেই ৫ হাজার টাকা হবে। আপনাদের বিদ্যুতের বিল জিরো করতে পিএম সূর্যঘর যোজনা। পিএম সূর্যঘর যোজনায় ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত সাহায্য মিলবে। আমরা পাইপলাইনের মাধ্যমে বাড়িতে গ্যাস দেব। এখানে তৃণমূলের সিন্ডিকেট আপনাদের পাইপলাইনে জলকেও লুটে নিচ্ছে। বিজেপি সরকার হলেই আপনাদের ঘরে পাইপলাইনের জল পৌঁছবে। বিজেপির ডাবল ইঞ্জিন সরকার পশ্চিমবঙ্গে মহিলাদের ডাবল সুবিধা দেবে।

 

তৃণমূলের ভয়কাল শেষ হচ্ছে, বিজেপির ভরসার কাল শুরু হচ্ছে। এটা বেঙ্গল টাইগারের গর্জন, বেঙ্গল টাইগার পশ্চিমবঙ্গের জনতা। এবার পশ্চিমবঙ্গের জনতা গর্জন করছে’। গত পরশুদিন সংসদে কেন্দ্রের মোদি সরকারের আনা সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ করানো যায়নি কংগ্রেস, তৃণমূল, সমাজবাদী পার্টি সহ বিরোধী সাংসদদের বিরোধিতায়। রবিবার বাংলায় দাঁড়িয়ে তার জন্য আরও একবার তৃণমূলকে মহিলা বিরোধী দল বলে তীব্র আক্রমণ করলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘দেশে মহিলাদের ক্ষমতায়নের জন্য তাদের বেশি করে রাজনীতিতে আসা উচিত। কিন্তু আপনারা দেখলেন সংসদে কী হল? তৃণমূল ফের একবার বাংলার মহিলাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করল। বাংলার বোনেরা চাইছিলেন সংসদের তাদের ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ হোক। মোদী সেই চেষ্টাই করেছিলেন।

 

২০২৯ থেকে ওই বিল লাগু হোক সেই চেষ্টাই তিনি করেছিলেন। কিন্তু তৃণমূল চায়নি যে বাংলার বোনেরা বেশি সংখ্যায় এমএলএ হোক, এমপি হোক। কারণ রাজ্যের বেশিরভাগ মহিলা তৃণমূলের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। কংগ্রেসের সঙ্গে মিলে তারা এই ষড়যন্ত্র করেছে। তারা মহিলাদের ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ হতে দিল না’। তৃণমূলের বিরুদ্ধে আদিবাসীদের প্রতি বঞ্চনার অভিযোগ তুলে মোদি বলেন, ‘দেশের রাষ্ট্রপতিও আদিবাসী মহিলা। কিন্তু দ্রৌপদী মুর্মুর বিরুদ্ধেও প্রার্থী দিয়েছিল কংগ্রেস, তৃণমূল। আদিবাসী মহিলা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বড় খেলা খেলেছিল কংগ্রেস ও তৃণমূল। পশ্চিমবঙ্গে যখন রাষ্ট্রপতি এসেছিলেন, তৃণমূল কী ব্যবহার করেছিল, সারা দেশ দেখেছে। দেশবাসী এক আদিবাসী মহিলার অপমান, রাষ্ট্রপতির অপমান কখনও মেনে নেবে না। রাষ্ট্রপতির অপমান আদিবাসীদের অপমান, সংবিধানের অপমান। মা-বোনেদের সম্মান, সমৃদ্ধি বিজেপির অগ্রাধিকার।

 

এখানে কুর্মি সমাজের মানুষজন আছেন, কিন্তু তৃণমূল তাঁদের কথা শোনে না। পশ্চিমবঙ্গের মা বোনেদের বলব, এবার তৃণমূলকে সাজা দিতে হবে। মহা জঙ্গলরাজকে মহা সাজা পাওয়া উচিত। আমরা আদিবাসী সমাজকে শক্তিশালী করতে চাই’। মহিলাদের উদ্দেশ্যে মোদি বলেন, ‘বোনদের সুরক্ষা, মা-বোনদের নিরাপত্তা বিজেপির প্রাথমিক লক্ষ্য। তৃণমূলের জন্য বাংলার মহিলারা বঞ্চিত। যা বিজেপি শাসিত রাজ্যে মেলে, তা এখানে তাঁরা পান না। অসম, ওড়িশা, গুজরাতে যা মহিলারা পান, এখানে তা পান না। এখানে বিজেপি সরকার হলে গরিব বোনেরা মুক্ত রেশন পাবেন। কেউ ছিনিয়ে নিতে পারবে না। বিজেপি সরকার পাকা ঘর তৈরি করতে পিএম আবাস যোজনায় দেড় লক্ষ টাকা পর্যন্ত সাহায্য করবে। এখানে আয়ুষ্মান যোজনা করতে দেয় না। বিজেপির সরকার হলে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসার খরচ দেবে’।

আরও পড়ুন