যুদ্ধবিরতি ভাঙার মুখে! হুঁশিয়ারি ইরানের, আবার হামলা হলে কঠোর জবাব

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের উত্তেজনা আবার চরমে। যুদ্ধবিরতির সময়সীমা শেষ হওয়ার মুখে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি.....

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের উত্তেজনা আবার চরমে। যুদ্ধবিরতির সময়সীমা শেষ হওয়ার মুখে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইরানের স্পষ্ট বার্তা, কোনও নতুন শত্রুতামূলক পদক্ষেপ হলে তার জবাব হবে কঠোর ও সিদ্ধান্তমূলক। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দুই দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের সম্ভাবনা তৈরি হলেও তা ঘিরে অনিশ্চয়তা বাড়ছে।

 

ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের কালীফাফ জানিয়েছেন, হুমকির ছায়ায় কোনও আলোচনায় বসবে না তেহরান। তার দাবি, যুদ্ধক্ষেত্রে ইরান প্রয়োজনে নতুন কৌশল সামনে আনতে প্রস্তুত। অন্যদিকে মার্কিন নেতৃত্বও কঠোর অবস্থানেই রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানের পরমাণু ঘাঁটিতে চালানো অভিযানের কথা উল্লেখ করে দাবি করেছেন, সেই হামলায় ইরানের পরমাণু স্থাপনাগুলি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে এবং সেগুলি পুনর্গঠন করা অত্যন্ত কঠিন হবে।
দুই সপ্তাহের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি বুধবার শেষ হতে চলেছে। কিন্তু ট্রাম্প ইতিমধ্যেই ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর সম্ভাবনা খুবই কম। তার বক্তব্য, সংঘাত শেষ করার তাড়াহুড়ো তার নেই। ফলে নতুন করে যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা আরও জোরদার হয়েছে।

 

পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনা। মার্কিন নৌবাহিনী একটি ইরানি পণ্যবাহী জাহাজ আটক করার পর ইরান আবারও হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে শত্রু দেশগুলির জন্য। এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বের বিপুল পরিমাণ তেল পরিবহণ হয়। ফলে এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে আন্তর্জাতিক বাজারেও। ইতিমধ্যেই অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি পঁচানব্বই ডলারের উপরে উঠে গেছে।

 

যুদ্ধের প্রভাব মানবিক ক্ষেত্রেও মারাত্মক। ইরান, লেবানন, ইজরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে সংঘর্ষে ইতিমধ্যেই পাঁচ হাজার সাতশোর বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গিয়েছে। একই সঙ্গে ইউরোপে জ্বালানি সঙ্কটের আশঙ্কাও বাড়ছে। ইউরোপীয় দেশগুলির পরিবহণ মন্ত্রীরা জরুরি বৈঠক ডেকেছেন, কারণ মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার জেরে জেট জ্বালানির মজুত দ্রুত কমে আসছে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

 

এই অস্থির পরিস্থিতির মাঝেই কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে চিন। বেজিংয়ের দাবি, পরিস্থিতি এখন এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে এবং বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে হরমুজ প্রণালী দ্রুত খুলে দেওয়া জরুরি।
সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ক্রমেই বিস্ফোরক হয়ে উঠছে। যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার আগের মুহূর্তে আলোচনার পথ খোলা থাকবে কি না, নাকি আবার নতুন করে যুদ্ধ শুরু হবে—সেই উত্তরই এখন খুঁজছে বিশ্ব।

আরও পড়ুন