‘শুধু পূর্ব মেদিনীপুরের মধ্যে আমাকে আটকে রাখবেন না। ১৫২টা আসনের মধ্যে ১২৫-এর নীচে বিজেপির নামার কোনও জায়গা নেই’। বাংলায় এবারের বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফা ভোটগ্রহণের দিনেই এমন চাঞ্চল্যকর দাবী করলেন বিদায়ী বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। প্রসঙ্গত ২৯৪ আসন বিশিষ্ট পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা বা সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১৪৮ বিধায়ক। শুধুমাত্র প্রথম দফার ১৫২ আসনের মধ্যেই বিজেপি যদি ১২৫ আসন পেয়ে যায় তাহলে বাংলায় নিরঙ্কুশ জয় পেয়ে সরকার গঠন শুধুমাত্র সময়ের অপেক্ষা। তবে একুশের বিধানসভার নির্বাচনেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বারে বারে দাবি করেছিলেন আব কি বার দোশো পার।
তবে সেই দাবির ধার কাছে যাওয়া তো দূরের কথা বিজেপিকে থেমে যেতে হয়েছিল মাত্র ৭৭-এই। বৃহস্পতিবার সকালে ভোট দেওয়ার আগে এবং পরে একটা কথাই ঘুরিয়েফিরিয়ে শুভেন্দু বললেন, ‘পরিবর্তন চাই, পরিবর্তন আনুন’। রাজ্যের উত্তর থেকে দক্ষিণবঙ্গে একসঙ্গে ১৬টি জেলায় ১৫২টি বিধানসভায় বৃহস্পতিবার ভোটগ্রহণ হয়। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ১৬টি আসনেই এদিন ভোট হয়। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের দিকে নজর রাজ্য রাজনীতির। কারণ এই বিধানসভা থেকে এদিনই ভাগ্য নির্ধারিত হচ্ছে শুভেন্দু অধিকারীর। যাঁর বিরুদ্ধে তৃণমূলের বড় চ্যালেঞ্জ তাঁরই এক সময়ের ছায়াসঙ্গী পবিত্র কর। কেন্দ্রীয় বাহিনীর কাজে তিনি সন্তুষ্ট। এ দিন গাড়ি নেননি শুভেন্দু। ই-রিকশায় চেপে নিজের বুথে যান।
পথে কিছুটা জনসংযোগ করেন। হিন্দুদের একজোট থাকার বার্তাও দেন। কিছুক্ষণের মধ্যে গ্রামের পথ ধরে পৌঁছে যান নন্দনায়কবাড় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এটাই তাঁর বুথ। এখানে প্রায় আধ ঘণ্টা ছিলেন শুভেন্দু। তার পরে ভোট দেন। সেখান থেকে চলে যান নিজের কার্যালয়ে। ঘাঁটি গেড়ে বসেন। বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে ভোটের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আলোচনা সেরে নেন। পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, ‘ভোটের সকালে গুন্ডাদের রাস্তায় থাকতে দেব না’। নন্দীগ্রামের দু’টি গ্রামে হিন্দুদের ভোট দিতে দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে পিংলার ওসি চিন্ময় প্রামাণিককে সাসপেন্ড করার দাবি তুলে শুভেন্দু বলেন, ‘আমাদের পোলিং এজেন্টকে তুলে নিয়ে গিয়েছে। পিংলার ওসিকে সাসপেন্ড করতেই হবে’।
তবে ভোট নিয়ে তিনি যে সন্তুষ্ট, তাও জানিয়ে দেন নির্দ্বিধায়। শুভেন্দুর কথায়, ‘তেমন কোনও গন্ডগোল নেই। ভালো ভোট হচ্ছে’। ভোট দিয়ে বেরিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘মানুষ চাইছে এই দুর্নীতিবাজদের সরকার চলে যাক। মানুষ চাইছে পরিবর্তন হোক। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ১৬টি আসনেই আমরা জয় লাভ করব। কেউ রুখতে পারবে না। সব ভোট পদ্মফুলেই পড়ছে। মোদিজির নেতৃত্বে রাজ্যে নতুন সরকার আসবে। নন্দীগ্রামে আমার জয়ের ব্যবধান বাড়বে’। প্রসঙ্গত পূর্ব মেদিনীপুর জেলার প্রতিটি ভোটদান কেন্দ্রে কড়া নজরদারি চলেছে। দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে তীব্র দাবদাহ চলছে। গরম উপেক্ষা করতে সকাল-সকাল ভোটের লাইনে সাধারণ মানুষকে দেখা যায়।

