বার্লিনে জার্মান প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে রাজনাথের বৈঠক

ভারত ও জার্মানির মধ্যে কৌশলগত প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বকে আরও সুদৃঢ় করতে এবার বড়সড় পদক্ষেপ করল দুই দেশ। বুধবার বার্লিনে জার্মান প্রতিরক্ষামন্ত্রী.....

ভারত ও জার্মানির মধ্যে কৌশলগত প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বকে আরও সুদৃঢ় করতে এবার বড়সড় পদক্ষেপ করল দুই দেশ। বুধবার বার্লিনে জার্মান প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াসের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মূলত দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত উন্নত প্রযুক্তির যৌথ উন্নয়ন এবং সরঞ্জাম উৎপাদনের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। আলোচনার শেষে রাষ্ট্রসঙ্ঘের শান্তিরক্ষী বাহিনীর প্রশিক্ষণে পারস্পরিক সহযোগিতা এবং একটি নয়া প্রতিরক্ষা শিল্প সহযোগিতা সংক্রান্ত রূপরেখায় স্বাক্ষর করেছে উভয় দেশই। নিজের এই সফরকে দুই দেশের মধ্যে গভীর বন্ধুত্ব, সমন্বয় এবং আস্থার প্রতীক বলে বর্ণনা করেছেন রাজনাথ সিং।

 

আন্তর্জাতিক স্তরে অর্থনৈতিক ডামাডোলের মাঝেও ভারত এবং জার্মানি কীভাবে বিশ্ব অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ও শক্তি জুগিয়েছে, সে কথাও মনে করিয়ে দেন তিনি। পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে কড়া বার্তা দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান যে, সন্ত্রাসবাদকে কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না এবং কোনো অজুহাতেই তাকে প্রশ্রয় দেওয়া উচিত নয়। অন্যদিকে, ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাম্প্রতিক নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বের বিষয়টি উল্লেখ করে রাজনাথ বলেন, এই পরিকাঠামোকে কাজে লাগিয়ে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। বৈঠকে সামরিক স্তরের বোঝাপড়া বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়। এই বছর ভারতে আয়োজিত হতে চলা ‘তরঙ্গ শক্তি’ সামরিক মহড়ায় জার্মান বায়ুসেনার অংশগ্রহণের অপেক্ষায় রয়েছে ভারত বলে জানিয়েছেন রাজনাথ সিং। জার্মান প্রতিরক্ষামন্ত্রীও সামরিক পর্যায়ের এই ধারাবাহিক আলোচনা এবং আগামী দিনে যৌথ সামরিক মহড়ার এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।

 

এর আগে জার্মান প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে রাজনাথ সিংকে বিশেষ সম্মানীয় অভিবাদন জানানো হয়। পরে তিনি বুন্দেসওয়ের মেমোরিয়ালে গিয়ে কর্তব্যরত অবস্থায় নিহত জার্মান সশস্ত্র বাহিনীর জওয়ানদের প্রতি শ্রদ্ধাও জ্ঞাপন করেন। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালে ভারত ও জার্মানির মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের পঁচাত্তর বছর এবং কৌশলগত অংশীদারিত্বের পঁচিশ বছর পূর্ণ হতে চলেছে। ২১ থেকে ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত তিনদিনের এই সরকারি সফরে প্রতিরক্ষা চুক্তির পাশাপাশি বাণিজ্য, প্রযুক্তি, সবুজ শক্তি এবং সংস্কৃতির আদানপ্রদানের মতো বিষয়গুলি নিয়েও দুই দেশের সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

আরও পড়ুন