স্মার্ট সিটি গড়তে এবার কৃত্রিম মেধার ছোঁয়া

আধুনিক নগরোন্নয়ন এবং স্মার্ট সিটি প্রকল্পগুলোকে আরও গতিশীল করতে এবার হাত মেলাল ভারত ও জাপান। বেঙ্গালুরুর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স.....

আধুনিক নগরোন্নয়ন এবং স্মার্ট সিটি প্রকল্পগুলোকে আরও গতিশীল করতে এবার হাত মেলাল ভারত ও জাপান। বেঙ্গালুরুর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স (আইআইএসসি) সমর্থিত একটি ডেটা প্ল্যাটফর্ম এবং জাপানের এক প্রখ্যাত নির্মাণ প্রযুক্তি সংস্থা নির্মাণ সংক্রান্ত বিশাল কিন্তু অব্যবহৃত তথ্যভাণ্ডারকে কৃত্রিম মেধা বা এআই-এর মাধ্যমে কাজে লাগাতে এক ঐতিহাসিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। আইআইএসসি বেঙ্গালুরুর ‘সেন্টার ফর ডেটা ফর পাবলিক গুড’-এর বাণিজ্যিক শাখা ‘ডেটা কাবেরী সিস্টেমস’ এবং জাপানের তোত্তোরি ভিত্তিক সংস্থা ‘ওয়ানস্ট্রাকশন ইনকর্পোরেশন’ একটি মৌ স্মারক বা মউ স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো দুই দেশের কৌশলগত ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার মাধ্যমে শহুরে পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য তথ্যের অবাধ ও সুরক্ষিত আদান-প্রদান নিশ্চিত করা। বেঙ্গালুরুতে আয়োজিত প্রথম ভারত-জাপান এআই স্ট্র্যাটেজিক ডায়ালগ চলাকালীন এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যেখানে জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রক এবং ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

 

এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে জাপানি সংস্থা ওয়ানস্ট্রাকশন-এর ‘ওপেন বিআইএম’ সংক্রান্ত দক্ষতা এবং ডেটা কাবেরীর ‘ইন্টেলিজেন্ট ইউনিভার্সাল ডেটা এক্সচেঞ্জ’ বা আইইউডিএক্স প্ল্যাটফর্মকে একীভূত করা হবে। উল্লেখ্য, আইইউডিএক্স ইতিমধ্যেই ভারতের ৫৫টি স্মার্ট সিটিতে শহুরে গতিশীলতা, গণপরিষেবা এবং পরিবেশ পর্যবেক্ষণের কাজে সফলভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। নগর পরিকল্পনা এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি বড় সমস্যা হলো, প্রকল্প শেষ হওয়ার পর নির্মাণ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো সাধারণত সংশ্লিষ্ট সংস্থার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকে যায় এবং পরবর্তী সময়ে তা আর সহজলভ্য হয় না। এই নতুন চুক্তির ফলে সেই ‘সাইলড’ বা বিচ্ছিন্ন তথ্যগুলো আর হারিয়ে যাবে না, বরং সেগুলোকে সুরক্ষিত ডেটা এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে এআই অ্যাপ্লিকেশনে ব্যবহার করে ডিজিটাল টুইন-এর মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তি গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

 

ডেটা কাবেরী সিস্টেমসের সহ-সভাপতি অশোক কৃষ্ণান জানিয়েছেন যে, নির্মাণ শিল্পে তথ্যের এক বিশাল খনি থাকলেও তা এতদিন অব্যবহৃত ছিল। কিন্তু আইইউডিএক্স-এর মতো একটি নিরাপদ স্তরের মাধ্যমে এই তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করা গেলে শহর পরিচালনাকারীরা এবং নগর পরিকল্পনাবিদরা আরও সঠিক ও তথ্যনির্ভর সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। ওয়ানস্ট্রাকশনের গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজি বিভাগের সহ-সভাপতি লুকাস হেউড এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে বর্ণনা করেছেন, কারণ এর ফলে বাড়ির নকশা বা নির্মাণ তথ্যের সঙ্গে পরিবহন এবং জনপরিষেবার তথ্যের সমন্বয় ঘটানো সম্ভব হবে যা নাগরিক জীবনকে আরও সহজ করে তুলবে। ভবিষ্যতে এই দুই সংস্থা যৌথভাবে স্মার্ট সিটি প্রকল্পের জন্য এআই-এর নতুন ব্যবহারিক ক্ষেত্র তৈরি এবং দ্বিপাক্ষিক অর্থায়নের সুযোগগুলো নিয়েও একযোগে কাজ করবে বলে জানা গিয়েছে।

আরও পড়ুন