ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় স্ত্রী ও দুই বছরের কন্যাকে হারিয়েও থামছে না দুর্ভাগ্যের ছায়া। এবার ব্রিটেন ছাড়ার নির্দেশ পেলেন এক ভারতীয় বংশোদ্ভূত যুবক। ঘটনাকে ঘিরে মানবিকতার প্রশ্নে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। গুজরাটের ভাদোদরার বাসিন্দা মোহাম্মদমিয়া সেঠওয়ালা কয়েক বছর আগে স্ত্রীর নির্ভরশীল ভিসায় ব্রিটেনে গিয়েছিলেন। তাঁর স্ত্রী সাদিকা সেখানে পড়াশোনা করতেন এবং পরে চাকরিও পান। ছোট্ট মেয়ে ফাতিমাকে নিয়ে সুখের সংসার চলছিল স্বাভাবিকভাবেই। কিন্তু হঠাৎই নেমে আসে ভয়াবহ বিপর্যয়। গত বছরের জুন মাসে এক মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান সাদিকা ও দুই বছরের ফাতিমা।
মুহূর্তে ভেঙে পড়ে গোটা পরিবার, একা হয়ে পড়েন সেঠওয়ালা। শোক সামলানোর আগেই সামনে আসে নতুন সংকট। স্ত্রীর উপর নির্ভরশীল ভিসায় থাকার কারণে তাঁর ব্রিটেনে থাকার আইনি ভিত্তিও শেষ হয়ে যায়। মানবিক কারণ দেখিয়ে সেখানে থাকার আবেদন জানালেও তা নাকচ করে দেয় প্রশাসন। বরং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। অসহায় সেঠওয়ালার আক্ষেপ, তাঁর জীবনে এখন আর কিছুই অবশিষ্ট নেই—স্ত্রী ও সন্তানকে হারিয়ে তিনি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছেন।
এমন অবস্থায় তাঁকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হলে তা আরও বড় আঘাত হবে বলেই দাবি তাঁর। ঘটনাটি সামনে আসতেই মানবাধিকার কর্মী ও অভিবাসন আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন—এমন পরিস্থিতিতে প্রশাসনের সিদ্ধান্ত কি আরও মানবিক হওয়া উচিত ছিল না। এখন শেষ ভরসা আইনি লড়াই। আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। বিচারালয়ের রায়ই ঠিক করে দেবে—শোকের শহরে থাকা হবে, নাকি আবার শূন্য হাতে ফিরে যেতে হবে নিজের দেশে।


