বল হাতে গতির আগুন ছোটালেন মহম্মদ শামি, আর ব্যাট হাতে নেতার মতো ম্যাচ ফিনিশ করলেন ঋষভ পন্থ। দুই তারকার দাপটে সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে তাদের ঘরের মাঠেই ৫ উইকেটে হারিয়ে চলতি আইপিএলে প্রথম জয়ের মুখ দেখল সঞ্জীব গোয়েন্কার লখনউ সুপার জায়ান্টস। আগের ম্যাচে দিল্লির কাছে হারলেও রবিবাসরীয় লড়াইয়ে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়াল নবাবের শহর। রবিবার টসে জিতে লখনউ অধিনায়ক ঋষভ পন্থ প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর আস্থার মর্যাদা দিয়ে শুরুতেই হায়দরাবাদকে কাঁপিয়ে দেন শামি।
ইনিংসের প্রথম ওভারেই খাতা খোলার আগে অভিষেক শর্মাকে প্যাভিলিয়নে ফেরান তিনি। শামির দ্বিতীয় শিকার ট্রেভিস হেড (৭)। পাওয়ার প্লে-তে শামির বিষাক্ত বোলিংয়ের সামনে দিশেহারা দেখায় অরেঞ্জ আর্মিকে। ৪ ওভারে মাত্র ৯ রান দিয়ে ২ উইকেট তুলে নিয়ে প্রতিপক্ষের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন ভারতের এই অভিজ্ঞ পেসার। ২৬ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা হায়দরাবাদকে টেনে তোলেন হাইনরিখ ক্লাসেন ও নীতীশ রেড্ডি। এই দুই ব্যাটার ৬৩ বলে ১১৬ রানের লড়াকু জুটি গড়েন।
নীতীশ ৫৬ এবং ক্লাসেন ৬২ রান করলেও শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৫৬ রানেই থমকে যায় হায়দরাবাদ। পন্থের দুর্দান্ত একহাতের ক্যাচে ফেরেন ক্লাসেন। জয়ের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে লখনউয়ের শুরুটা মন্দ হয়নি। ওপেনার এডেন মার্করাম ২৭ বলে ৪৫ রান করে জয়ের ভিত গড়ে দিলেও অন্য প্রান্তে উইকেট হারায় দল। মিচেল মার্শ (১৪) এবং নিকোলাস পুরান (১) দ্রুত আউট হওয়ায় এক সময় চাপে পড়ে গিয়েছিল লখনউ। তবে তিন নম্বরে নেমে পন্থ যেন সব দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিলেন। শুরুতে মন্থর গতিতে খেললেও সময়ের সঙ্গে রুদ্রমূর্তি ধারণ করেন লখনউ অধিনায়ক।
শেষ ৬ ওভারে লখনউয়ের প্রয়োজন ছিল ৪৯ রান। স্পিনারদের সামলে পেসারদের ওপর চড়াও হন পন্থ। বিশেষ করে জয়দেব উনাদকাটকে নিশানা করে জয়ের লক্ষ্যে এগিয়ে যান তিনি। আব্দুল সামাদ (১৬) আউট হলেও অবিচল ছিলেন পন্থ। শেষ ওভারে দরকার ছিল ৯ রান। উনাদকাটকে টানা দু’টি চার মেরে ১ বল বাকি থাকতেই জয় নিশ্চিত করেন তিনি। ৫০ বলে ৬৮ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন পন্থ। তাঁর পরিণত ব্যাটিং আর শামির আগুনে স্পেলই লখনউ শিবিরে স্বস্তির হাসি ফিরিয়ে আনল। এদিকে রবিবার দ্বিতীয়তে খেলা হয় আরসিবি বনাম সিএসকের মধ্যে । টসে জিতে সিএসকে বল করার সিদ্ধান্ত নেয় । দশ ওভারে আরসিবির রান হয় ৯১ রান এক উইকেটের বিনিময়ে।


