কালবৈশাখীর তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটাল মহকুমা। মঙ্গলবার সন্ধ্যার প্রলয়ঙ্করী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে প্রাণ হারিয়েছেন দু’জন। মৃতদের মধ্যে রয়েছেন দাসপুরের বড় শিমুলিয়ার ভারতী সাঁতরা (৫৫) এবং ঘাটালের কোন্নগরের নিরঞ্জন মান্না (৬৪)। ভারতীদেবী বিদ্যুতের খুঁটি চাপা পড়ে এবং নিরঞ্জনবাবু গাছ চাপা পড়ে প্রাণ হারান। বুধবার পুলিশ দেহ দুটি উদ্ধার করে ঘাটাল মহকুমা হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে।
প্রকৃতির রুদ্রমূর্তিতে ঘাটাল ও দাসপুরের ১২টি ব্লকের জনজীবন কার্যত স্তব্ধ। ঝড়ের দাপটে কোথাও উড়ে গিয়েছে স্কুলের ছাউনি, কোথাও তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে মাটির বাড়ি। অন্তত ৮০টি বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে এবং কয়েকশো মিটার তার ছিঁড়ে যাওয়ায় মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকেই ঘুটঘুটে অন্ধকারে গোটা এলাকা। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় সজল ধারা প্রকল্পের পানীয় জল সরবরাহ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তীব্র জলকষ্টে নাভিশ্বাস উঠছে কয়েক হাজার বাসিন্দার। হাসপাতালের পরিষেবা থেকে দৈনন্দিন গৃহস্থালি— সর্বত্রই হাহাকার।
রাস্তার ওপর গাছ ভেঙে পড়ে দুমড়ে-মুচড়ে গিয়েছে একাধিক বাইক ও চারচাকা গাড়ি। পরিস্থিতি সামাল দিতে আসরে নেমেছে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল যুদ্ধকালীন তৎপরতায় রাস্তা থেকে গাছ সরিয়ে যাতায়াত স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালাচ্ছে। বিদ্যুৎ দপ্তরের কর্মীরাও মেরামতির কাজে নেমেছেন। বুধবার বিকেলের পর কিছু এলাকায় সংযোগ ফিরলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগবে।
ঝড়ের সঙ্গে দোসর হয়েছিল ব্যাপক শিলাবৃষ্টি। এর ফলে ঘরবাড়ির পাশাপাশি বিঘার পর বিঘা সবজি চাষের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হবে এবং জনজীবন স্বাভাবিক করে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।’ তবে আতঙ্কের রেশ কাটছে না জনমানসে। বিধ্বস্ত ঘাটাল ও দাসপুর এখন শুধুই ধ্বংসস্তূপ আর অন্ধকারের প্রহর গুনছে।


