সংগ্রামের পথ পেরিয়ে ভারতীয় ক্রিকেটে উত্থান

মুম্বইয়ের আজাদ ময়দানের পাশে একটি ছোট তাঁবু—সেখানেই কাটত রাত। দিনের বেলায় অনুশীলন, আর বেঁচে থাকার জন্য কখনও গোলগাপ্পা বিক্রি—এই বাস্তবতার.....

মুম্বইয়ের আজাদ ময়দানের পাশে একটি ছোট তাঁবু—সেখানেই কাটত রাত। দিনের বেলায় অনুশীলন, আর বেঁচে থাকার জন্য কখনও গোলগাপ্পা বিক্রি—এই বাস্তবতার মধ্যেই বড় হয়ে উঠেছেন যশস্বী জয়সওয়াল। দারিদ্র্য, অনিশ্চয়তা আর প্রতিদিনের লড়াই ছিল তাঁর জীবনের অংশ। উত্তরপ্রদেশের ভদোহি জেলা থেকে অল্প বয়সে মুম্বইয়ে আসেন তিনি ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে। কিন্তু শহরে এসে প্রথমেই ধাক্কা—থাকার জায়গা নেই, স্থায়ী আয়ের উৎস নেই।

 

এক পরিচিতের সহায়তায় আজাদ ময়দানের পাশে একটি দুগ্ধকেন্দ্রের তাবুতে থাকার ব্যবস্থা হয়। সেখানেই দিন কাটতে থাকে তাঁর। অর্থাভাবে অনেক সময় খাবার জোটেনি। টিকে থাকার জন্য তিনি রাস্তার ধারে গোলগাপ্পা বিক্রি করতেন। তবে সমস্ত কষ্টের মধ্যেও অনুশীলনে কোনও ছেদ পড়েনি। প্রতিদিন ভোরে উঠে মাঠে পৌঁছে যেতেন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা ব্যাটিং অনুশীলন করতেন। তাঁর প্রতিভা নজরে পড়ে কোচ জ্বালা সিংহের। তিনি শুধু প্রশিক্ষণই দেননি, থাকার ও খাওয়ার ব্যবস্থাও করে দেন যশস্বীর জন্য।

 

সেই সময় থেকেই তাঁর জীবনে মোড় ঘুরতে শুরু করে। দুই হাজার উনিশ সালে অনূর্ধ্ব উনিশ একদিনের ক্রিকেটে ইতিহাস গড়েন যশস্বী। তিনি বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ ক্রিকেটার হিসেবে দ্বিশতরান করেন এবং প্রতিযোগিতায় সর্বাধিক রান সংগ্রাহকদের মধ্যে অন্যতম হন। একই বছর অনূর্ধ্ব উনিশ বিশ্বকাপে ভারতের হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে দলের অন্যতম ভরসা হয়ে ওঠেন। এরপর ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক ভালো পারফরম্যান্সের জেরে তিনি দ্রুত জাতীয় নির্বাচকদের নজরে আসেন। অবশেষে ভারতীয় জাতীয় দলে সুযোগ পান এবং টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেকেই শতরান করে নিজের আগমনের জানান দেন।

আরও পড়ুন