আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে আসানসোলের কল্যানপুর হাউজিং লাগোয়া ওয়েবেল আইটি পার্কের বিপরীতে এডিডিএ গ্রাউন্ডে রবিবার দুপুরে আসানসোল উত্তর ও দক্ষিণ বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থীদের সমর্থনে জনসভায় বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আসানসোল উত্তর ও দক্ষিণ কেন্দ্রের প্রার্থী মলয় ঘটক এবং তাপস বন্দ্যোপাধ্যায়ের হয়ে প্রচারের পাশাপাশি এদিন উপস্থিত ছিলেন পাণ্ডবেশ্বরের নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, জামুড়িয়ার হরেরাম সিং এবং কুলটির প্রার্থী অভিজিৎ ঘটক। এই জনসভা থেকে নরেন্দ্র মোদী এবং বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দাবি ও প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন।
এসআইআরে ভোটার তালিকা ও এনআরসি নিয়ে আক্রমণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন যে, ভোটার তালিকা থেকে সুকৌশলে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমি লড়াই করে ৩২ লক্ষ নাম যুক্ত করেছি। মনে রাখবেন, এখনও ৯০ লক্ষ নাম তুলতে হবে। ৬০ লক্ষ হিন্দু এবং ৩০ লক্ষ মুসলিম ভোটারকে বাদ দেওয়ার ষড়যন্ত্র করা হয়েছে’। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, বাংলায় কোনোভাবেই এনআরসি হতে দেবো না। ভোটার তালিকার অসঙ্গতির জন্য প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগও দাবি করেন তিনি। কেন্দ্রীয় সরকারকে নিশানা করে মমতা বলেন, মোদীজি সোনার বাংলা করার কথা বলেন, অথচ বাংলার মানুষের নাম কাটেন। বিজেপি বাংলায় কাপুরুষতা করছে।
তিনি আরও যোগ করেন, সাথেই এল মোটা ভাই, সঙ্গে ইডি-সিবিআই। আমাদের প্রার্থীদের ভয় দেখানো হচ্ছে। শিখ সম্প্রদায়ের প্রতি অবমাননা ও বিহারি শ্রমিকদের ওপর অত্যাচারের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বিজেপির সমালোচনা করেন। আসানসোল-রানীগঞ্জ শিল্পাঞ্চল নিয়ে একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতির কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। ইন্ডাস্ট্রিয়াল হাব প্রসঙ্গে আসানসোল ও রানীগঞ্জকে আন্তর্জাতিক মানের ক্লাস্টার হিসেবে গড়ে তোলা হবে। কর্মসংস্থান নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আসানসোলে গ্যাস সেলের কারখানা ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল করিডর তৈরি হবে। যেখানে স্থানীয় হাজার হাজার যুবক-যুবতী চাকরি পাবেন। ধস কবলিত এলাকার মানুষের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। নির্দিষ্ট জায়গায় শিফট হলে তাঁরা আর্থিক সাহায্যও পাবেন। সামাজিক প্রকল্প নিয়ে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, স্বাস্থ্যসাথী, খাদ্যসাথী এবং যুবশ্রী প্রকল্পের সুবিধা মানুষ সারা জীবন পাবেন বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
রেল ও শিল্প নিয়ে কেন্দ্রকে বার্তা দিয়ে শিল্পাঞ্চলের বন্ধ কলকারখানা নিয়ে কেন্দ্রকে কাঠগড়ায় তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রেল ইঞ্জিন কারখানা দুর্বল করা হয়েছে। কেবলস কারখানা বন্ধ হয়েছে। কয়লা চুরির দায় আপনাদের (বিজেপি), কারণ নিরাপত্তার দায়িত্বে আপনাদের সিআইএসএফ ছিল। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, তৃণমূল সরকারই চিত্তরঞ্জন রেল কারখানার বরাত বাড়িয়েছে এবং নতুন পুলিশ কমিশনারেট গঠন করেছে। বক্তব্যের শেষে তিনি ভোটারদের সতর্ক করে বলেন, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত কোনো তথ্য যেন কাউকে না দেওয়া হয়। তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, ‘নির্বাচন আসলেই ভয় দেখানো হচ্ছে। সাহস থাকলে আমার সঙ্গে সামনা-সামনি লড়াই করুন। এবার গণতন্ত্রেই বদলা হবে এবং বাংলা জিতবে’।

