বিচারপতি বিভি নাগরত্ন শনিবার বেঙ্গালুরুতে বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের ২২তম দ্বিবার্ষিক রাজ্যস্তরের সম্মেলনে ভাষণ দিতে গিয়ে এক কঠোর বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন যে সমস্ত বিচারক নিজেদের উপার্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারেন না এবং লোভ বা প্রলোভনের বশবর্তী হন, তাদের অবিলম্বে বিচারব্যবস্থা থেকে অপসারণ করা উচিত। বিচারকদের সাহসিকতা এবং নিরপেক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালনের ওপর জোর দিয়ে তিনি সতর্ক করেন যে, কোনো বিচারকের কলুষিত সিদ্ধান্ত কেবল তার নিজের জন্যই নয়, বরং সমগ্র বিচারব্যবস্থার ওপর একটি কালো দাগ হয়ে দাঁড়ায়।
২০২৭ সালের সেপ্টেম্বরে ভারতের প্রথম মহিলা প্রধান বিচারপতি হওয়ার দৌড়ে থাকা বিচারপতি নাগরত্ন কর্ণাটকের জেলা আদালতগুলোর প্রশংসা করার পাশাপাশি বিচারকদের বাহ্যিক প্রভাবমুক্ত থেকে বিচারকার্য পরিচালনার পরামর্শ দেন।
ভাষণ চলাকালীন তিনি আইনি গবেষণায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI)-এর অপব্যবহার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জানান যে, সুপ্রিম কোর্টে তার নিজের বেঞ্চেই এমন ঘটনা ঘটেছে যেখানে আইনজীবীরা এআই-এর ওপর অন্ধভাবে নির্ভর করে জাল বা কাল্পনিক মামলার উদ্ধৃতি দিয়েছেন।
তিনি ‘মার্সি বনাম ম্যানকাইন্ড’ নামক একটি অস্তিত্বহীন মামলার উদাহরণ টেনে বলেন যে, ন্যায়বিচারের ভবিষ্যৎ এআই দ্বারা নয়, বরং সংবিধানের মূল্যবোধ এবং আইনের শাসন দ্বারা পরিচালিত হওয়া উচিত। এ ছাড়া তিনি জেলা আদালতের বিচারকদের পদোন্নতি, পোস্টিং এবং বদলির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। নারী বিচারকদের জন্য কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং পক্ষপাতহীন পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন যে, উচ্চ আদালতের রেজিস্ট্রি বিভাগকে বিচারকদের প্রকৃত অভিযোগগুলোর সমাধানে আরও সংবেদনশীল হতে হবে।


