নির্বাচনের আগে বাংলার তৃণমূল নেতাকর্মীদের সতর্ক করলেন অভিষেক। ‘বিজেপির কাছ থেকে টাকা নিয়ে কিছু মানুষ তৃণমূলকে দুর্বল করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু মনে রাখবেন দল সকলের উপরে নজর রাখছে। কয়েকটা জায়গায়, রাতের অন্ধকারে বিজেপির থেকে টাকা নিয়ে দলকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে। ৪ তারিখ দেখা হবে।’ এভাবেই বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা যেন দলের প্রতি একনিষ্ঠ হয়ে কাজ করে যান তার জন্য সতর্ক করে দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দলীয় নেতাকর্মীদের সতর্ক করার পাশাপাশি বাংলার মানুষ তথা সর্বস্তরের ভোটারদের উদ্দেশে বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, নোটবন্দি বা লাইনে দাঁড় করিয়ে যারা আপনাদের কষ্ট দিয়েছে, তাদের ভোটের লাইনে দাঁড়িয়েই জবাব দিন।’
রবিবার দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার গোসাবা বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী তথা গতবারের বিধায়ক সুব্রত মন্ডলের সমর্থনে নির্বাচনী জনসভা করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। গোসাবায় বক্তব্য রেখে অভিষেক জানান, ‘সুব্রত এখানকার ভূমিপুত্র। গোসাবার দরকার একজন ভূমিপুত্রকেই। এমন কাউকে প্রয়োজন, যে গ্রামের প্রতিটি অঞ্চলকে চেনে, দিল্লির দালালদের নয়।’ এলাকার বিজেপি প্রার্থীকে ‘বহিরাগত’ তোপ দেগে তিনি অভিযোগ করেন, ‘এখানে যিনি বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন, তিনি গোসাবায় থাকেন না। তিনি বহিরাগত, এলাকার খালবিল চেনেন না, পাড়া-গ্রাম চেনেন না। মানুষের পাশে কোনওদিন দাঁড়াননি।’ বিজেপির জনবিচ্ছিন্নতা বোঝাতে অভিষেক কটাক্ষ করে বলেন, ভোটের আগে বা পরে এই দলটাকে বা তাদের প্রার্থীকে অণুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়েও খুঁজে পাওয়া যায় না।
এঁরা বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে একেবারেই ওয়াকিবহাল নন। ভোটের প্রচারে বেরিয়ে বিজেপি প্রার্থীদের অভিনব জনসংযোগ- যেমন সাধারণ মানুষের বাড়িতে লুচি ভাজা বা চুল-দাড়ি কেটে দেওয়াকে এদিন কড়া ভাষায় বিঁধেছেন অভিষেক। আমজনতাকে তিনি বলেন, ‘আপনারা দেখছেন বিজেপির প্রার্থী হয়ে কেউ বাড়িতে গিয়ে দাড়ি কেটে দিচ্ছে, কেউ চুল কেটে দিচ্ছে, কেউ লুচি ভেজে দিচ্ছে। আমি গোসাবার ভাইদের বলব, আগামী একমাস কারও চুল-দাড়ি কাটানোর প্রয়োজন নেই। বিকর্ণ নস্করকে (বিজেপি প্রার্থী) দিয়ে কেউ লুচি ভাজাবেন, কেউ চুল কাটাবেন, কেউ দাড়ি কাটাবেন। কারণ ভোটের পর অণুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়েও আর এঁদের খুঁজে পাওয়া যাবে না।’ এলাকার মহিলাদের উদ্দেশে তাঁর নিদান, ‘বিজেপির প্রার্থীরা ভোট চাইতে গেলে মায়েদের বলব, ঝাঁটাটা হাতে ধরিয়ে দিয়ে ঘরদোর পরিষ্কার করাবেন।’ বিরোধীদের কার্যত চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে অভিষেক আত্মবিশ্বাসের সুরে জানান, আগামী মাসের ৫ তারিখের পর এতোক্ষণে বিরোধীদের ‘ভোকাট্টা’ দশা হবে। তাঁর দাবি, সুখে-দুঃখে তৃণমূলের কর্মীরাই সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। সবশেষে চেনা স্লোগান তুলে তিনি বলেন, ‘শীত গ্রীষ্ম বর্ষা, তৃণমূল কংগ্রেসই ভরসা। এর কোনও বিকল্প নেই।’
রবিবার দুপুরে পূর্ব বর্ধমানের রায়না বিধানসভায় তৃণমূল প্রার্থী মন্দিরা দলুইয়ের সমর্থনে জনসভা করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার রায়নার শ্যামসুন্দর কলেজ মাঠে আয়োজিত এই সভায় জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব এবং বিভিন্ন বিধানসভার প্রার্থীরাও উপস্থিত ছিলেন। এসআইআর-এর নামে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, যারা মানুষের উপর অত্যাচার করেছে, তাদের ভোট দেওয়া মানে সিপিএমের হাত শক্ত করা। ধর্ম নয়, কর্মের ভিত্তিতে রাজনীতি করার আহ্বান জানান তিনি। বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে অভিষেক বলেন, বিজেপিকে ল্যাজে গোবরে করে ছাড়ব। কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে মূল্যবৃদ্ধি এবং কৃষকবিরোধী নীতির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, গোবিন্দভোগ চাল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা কৃষকদের ক্ষতিগ্রস্ত করছে। সেই সঙ্গে রায়নাতে তৃণমূলের জয়ের ব্যবধান অন্ততপক্ষে পঞ্চাশ হাজার করার টার্গেট বেঁধে দেন দলের নেতাকর্মীদের কাছে।
এবার রায়নার প্রার্থী মন্দিরা দলুই। তিনি ভূমিকন্যা। তাই তাঁর জয়ের বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী অভিষেক। তিনি বলেন, ‘মন্দিরা দলুই মাটির মেয়ে। তিনি দু’বার নির্বাচিত জেলা পরিষদ মেম্বার। জনসেবার ক্ষেত্রে তিনি প্রগতিশীল দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ করবেন। জনকল্যাণমূলক কাজ মানুষের কাছে পৌছে দিয়েছেন।’ বিরোধীদের খোঁচা দিয়ে অভিষেক আরও বলেন, ‘এখন সিপিএম-এর সন্ত্রাস অতীত। ২০০৯ সালে মাধবডিহিতে সন্ত্রাস চালিয়েছিল। সেখানকার মা-বোনেরা সিপিআইএমকে তাড়িয়েছে।’ এরপর সরাসরি বিজেপি প্রার্থীকেও তোপ দাগেন অভিষেক। তাঁর কথায়, ‘প্রার্থীকে কেউ চেনে না। তিনি এমন দলের প্রতিনিধি যে দল বাংলার জনবিরোধী।’


