মুর্শিদাবাদ দখলের লক্ষ্যে কোমর বেঁধে ময়দানে নামলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার জলঙ্গির সাদিখাঁদিয়ার স্কুল মাঠের নির্বাচনী জনসভা থেকে তাঁর স্পষ্ট বার্তা, গতবার হাতছাড়া হওয়া বহরমপুর ও মুর্শিদাবাদ আসন দুটিও এবার ছিনিয়ে নিতে হবে। জেলার ২২টি আসনেই ঘাসফুল ফোটানোর বড় লক্ষ্যমাত্রা স্থির করে দিয়ে অভিষেক বলেন, ‘২২ টি আসনই জেতানোর দায়িত্ব আমার।’ এদিন ডোমকলের প্রার্থী হুমায়ুন কবির এবং জলঙ্গির প্রার্থী বাবর আলির সমর্থনে সরব হন তিনি। একইসঙ্গে জেলাবাসীর কাছে তাঁর আর্জি, এই দুই প্রার্থীকে অন্তত ৫০ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ী করতে হবে।
বিরোধীদের তীব্র আক্রমণ শানিয়ে অভিষেক বলেন, ‘বিজেপির থেকে টাকা নিয়ে মানুষকে ভাগ করার চেষ্টা করেছে যারা তাদেরকে ঝেটিয়ে বিদায় দিন। বিজেপির বি টিম ও সি টিমকে ঝেটিয়ে বিদায় দিতে হবে।’ তাঁর নিশানায় ছিল কংগ্রেস ও বামেরাও। সাফ জানিয়ে দেন, ‘এখানে কংগ্রেসকে ভোট দেওয়া মানে বিজেপির হাত শক্ত করা। সিপিএম কংগ্রেসকে ভোট দিয়ে ভোট নষ্ট করবেন না।’ বহিরাগত তত্ত্ব টেনে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, ‘এবার নির্বাচনে বহিরাগতদের বিদায় দেব।’
এদিন ডোমকল ও জলঙ্গির সরকারি উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরার পাশাপাশি লক্ষ্মীর ভান্ডার নিয়ে বিজেপিকে আক্রমণ করেন অভিষেক। তাঁর প্রতিশ্রুতি, ‘বিজেপি ভয় দেখাচ্ছে ক্ষমতায় এলে লক্ষ্মীর ভান্ডার বন্ধ করে দেবে। কিন্তু আমরা থাকতে সেটা কোনওদিন হবে না। আজীবন লক্ষ্মী ভান্ডার পাবেন।’ এছাড়াও ঘরে ঘরে পানীয় জল, দুয়ারে স্বাস্থ্য শিবির এবং প্রবীণদের বার্ধক্য ভাতা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেন তিনি। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার আতঙ্ক দূর করতে সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, ‘আপনাদের কারোর নাম বাদ যাবে না। শুধু মমতার হাত শক্তি করতে হবে।’
দিল্লির বশ্যতা স্বীকার না করার বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, ‘দিল্লির গদ্বারদের হাতে বশ্যতা শিকার করবে না তৃণমূল।’ যাদের নাম বাদ গিয়েছে, তাদের ট্রাইব্যুনালে আবেদনের পরামর্শ দেন তিনি। বিভাজনকারীদের প্ররোচনায় পা না দেওয়ার আর্জি জানিয়ে মেজাজি ঢঙে অভিষেক বলেন, ‘২৩ তারিখে মাথা, ঘাড়, হাত ভাঙব। ২৯ তারিখে মেরুদন্ড ও পা ভেঙে খাটে তুলে বহিরাগতদের বিদায় দেবো।’ আগামী দিনে মানুষের ভোটাধিকার সুরক্ষিত করাই দলের প্রথম কাজ বলে তিনি ঘোষণা করেন।


