উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়া বিধানসভা কেন্দ্রে নির্বাচনী প্রচারে এসে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ওরফে বালুর সমর্থনে সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জী । সভার শুরুতেই তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক তাঁর ফেভারিট ক্যান্ডিডেট এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহযোদ্ধা। বিরোধীদের কুৎসা ও অপপ্রচারে কান না দেওয়ার জন্যও তিনি ভোটারদের কাছে আবেদন জানান।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বালুর নামে নানা বদনাম করা হচ্ছে। কিন্তু আমার সরকারে থেকে বালু যে কাজ করেছে, তা অনেকেই করতে পারেনি। ওকে হিংসে করেই ভুয়ো মামলায় ফাঁসানো হয়েছিল এবং গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তাঁর দাবি, রেশন দুর্নীতির অভিযোগে যেসব মামলা করা হয়েছে, সেগুলি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং বালুকে বদনাম করার জন্যই এইসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।
তৃণমূল নেত্রী আরও বলেন, রাজ্যে রেশন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা আনতে বড় ভূমিকা ছিল জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের। তাঁর উদ্যোগেই ডিজিটাল রেশন কার্ড চালু করা হয়েছিল, যা সাধারণ মানুষের কাছে পরিষেবা পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ছিল। আগে রেশন সামগ্রী পাচারের অভিযোগ থাকলেও কঠোর নজরদারির মাধ্যমে সেই দুর্নীতি অনেকটাই বন্ধ করা সম্ভব হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
এই প্রসঙ্গে তিনি বামফ্রন্ট আমলকেও তীব্র কটাক্ষ করেন। মমতার অভিযোগ, বাম আমলে বহু ভুয়ো নাম রেশন কার্ড তালিকায় ঢোকানো হয়েছিল এবং সেই ভুয়ো নামের মাধ্যমে রেশন তোলা হত। তিনি বলেন, সিপিএমের সময় প্রায় দেড় লক্ষ ভুয়ো নাম রেশন কার্ডে ঢোকানো হয়েছিল। সেই চুরি ধরেছিল বালু। তাই তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
সভা মঞ্চ থেকে বিরোধী দলগুলিকেও একসঙ্গে আক্রমণ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, রাজ্যে বিজেপি, সিপিএম এবং কংগ্রেস—তিনটি দলই একই রাজনৈতিক লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। তিনি বলেন, আগে যারা সিপিএম করত, এখন তারা বিজেপি করছে। কংগ্রেস, বিজেপি, সিপিএম—তিনটেই সেম সেম।
ভোটারদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, কুৎসা বা অপপ্রচারে প্রভাবিত না হয়ে উন্নয়ন এবং কাজের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, উত্তর ২৪ পরগনার মানুষকে জিজ্ঞাসা করি, এত অপমানের বদলা নেবেন কি নেবেন না? তাঁর বক্তব্য, মানুষের আশীর্বাদ পেলেই উন্নয়নের কাজ আরও জোরদার করা হবে এবং এলাকার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সাহায্য দেওয়া হবে।
সভা শেষে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়। দলীয় নেতৃত্বের দাবি, হাবড়া বিধানসভা কেন্দ্রে জয়ের ব্যাপারে তারা যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী এবং মানুষের সমর্থনই তাদের প্রধান শক্তি।


