ঐতিহাসিক জেলা মুর্শিদাবাদ-এ পর্যটনের উপর নির্ভরশীল বহু মানুষের জীবিকা আজ অনিশ্চয়তার মুখে। বিশেষ করে হাজারদুয়ারি প্রাসাদ চত্বরে টাঙ্গা চালকদের অবস্থা ক্রমশই শোচনীয় হয়ে উঠছে। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে জোরদার প্রচার চললেও, তাঁদের জীবনযাত্রার উন্নতি নিয়ে কার্যত কোনও আলোচনা নেই বলেই অভিযোগ।
একসময় হাজারদুয়ারির সামনে সারি দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকত ঘোড়ার গাড়ি। পর্যটকদের ভিড় থাকলেই মিলত রোজগারের সুযোগ। কিন্তু বর্তমানে সেই চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে। পর্যাপ্ত পর্যটকের অভাব, পরিকাঠামোর দুর্বলতা এবং পরিকল্পনার ঘাটতির কারণে জেলার পর্যটন শিল্প আগের মতো আকর্ষণ ধরে রাখতে পারছে না। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে টাঙ্গা চালকদের উপর।
স্থানীয়দের দাবি, আগে যেখানে জেলায় ৩৫০-র বেশি ঘোড়ার গাড়ি চলত, এখন তা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২০০-তে। অনেক চালক বাধ্য হয়ে এই পেশা ছেড়ে অন্য কাজের সন্ধানে চলে গেছেন। যারা এখনও টিকে আছেন, তাঁদেরও প্রতিদিনের সংগ্রাম ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে।
সমস্যার অন্যতম কারণ আধুনিক যানবাহনের বাড়বাড়ন্ত। বিশেষ করে টোটোর দাপটে পর্যটকরা এখন সহজেই বিকল্প পরিবহণ বেছে নিচ্ছেন। ফলে টাঙ্গায় চড়ার আগ্রহ কমছে। পাশাপাশি বহু বছর ধরে ভাড়া না বাড়ায় আয়ের পরিমাণ স্থির থাকলেও খরচ বেড়েই চলেছে।
টাঙ্গা চালকদের কথায়, একটি ঘোড়া প্রতিদিন চালাতে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই খরচও তোলা যাচ্ছে না অনেক সময়। পর্যটনের মৌসুম ছাড়া বছরের বাকি সময় প্রায় অর্ধাহারে-অনাহারে কাটাতে হয় তাঁদের। চৈত্রের তীব্র গরমে কাজের সুযোগ আরও কমে যায়।
এদিকে, নির্বাচনের আগে একাধিক রাজনৈতিক দল প্রচারে ব্যস্ত থাকলেও, টাঙ্গা চালকদের অভিযোগ—বিধায়ক বা সাংসদ কেউই তাঁদের সমস্যার খোঁজ নেন না। দীর্ঘদিন ধরে কোনও সরকারি সহায়তা বা পরিকল্পনার অভাবেই এই ঐতিহ্যবাহী পেশা ধীরে ধীরে হারিয়ে যাওয়ার পথে।


