‘বহিরাগত আসে বহিরাগত যায়, বাংলা নিজের মেয়েকেই চায়। বিজেপির নেতাদের দেখেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বলছেন মমতা। আর বিজেপির নেতাদের পা ধরে প্রণাম করছেন। বাংলা মাথা নত করতে জানে না।’ সোমবার করিমপুরের সভা থেকে নাম না করে শুভেন্দুকেই খোঁচা দিলেন অভিষেক। গতকাল অর্থাৎ রবিবার উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সভা ছিল কাঁথিতে। সেখানে বিজেপির শুভেন্দু অধিকারীকে দেখা যায়, যোগীর পা ছুঁয়ে প্রণাম করতে। অনেকের মতে, সেই বিষয়টিতেই এদিন কটাক্ষ করেন অভিষেক। তিনি ডিলিটেড ভোটারদের ভোটাধিকার ফেরানোর বার্তা দেন।
করিমপুরে রেগুলেটেড মার্কেট গ্রাউন্ডে সভা থেকে অভিষেক আশ্বাস দেন, ‘নথি ঠিক থাকা সত্ত্বেও গায়ের জোরে গায়ের জোরে এসআইআরে নাম বাদ দিচ্ছে। তবে চিন্তার কোনও কারণ নেই তাদের সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস আছে। শুধু তাই নয়, নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকেও নিশানা করেন অভিষেক। তিনি বলেন, জ্ঞানেশ কুমার ফিনিস, জ্ঞানেশ কুমার ভ্যানিস। মমতা বন্দ্যোপাধায়কে ভোট দিন তাহলে ৪ মে মমতার সরকার তৈরি হবে এবং সকলের ভোটাধিকার ফেরানো হবে।’ এনআরসি প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বিজেপিকে নিশানা করে অভিষেক বলেন, ‘বিজেপি আসলেই এনআরসি করবে। আমরা এনআরসি করতে দিইনি। তাঁর কথায় বিজেপি মানেই ডিটেনশন আর তৃণমূল মানেই নো ডিটেনশন। বিজেপিকে আরও কড়া ভাষায় আক্রমণ শানিয়ে তভিশেক বলেন, বিজেপি যাদের ভোটে জিতেছে তাদের নামই বা
দ দিয়েছে। মতুয়াদের নাম বাদ দিয়েছে। বিজেপিকে যাঁরা ভোট দিয়েছিলেন তাঁদের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, বাড়ি দিচ্ছে তৃণমূল সরকার।’ এছাড়াও, নোটবন্দি, গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি প্রভৃতি ইস্যু নিয়েও বিজেপিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন অভিষেক। এ দিন সভা থেকে একাধিক ইস্যু তুলে বিজেপিকে আক্রমণ শানান অভিষেক। বাংলার সংস্কৃতিকে বিজেপি আক্রমণ করছে বলে অভিযোগ করেন। মাছ-মাংস খাওয়া নিয়ে বিজেপি বার বার আক্রমণ করছে বলে অভিযোগ করেছেন অভিষেক। এ দিন তাঁর বক্তব্যে রাজ্যের প্রকল্পের সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। তৃণমূল প্রার্থীদের ভোটে জেতানোর ডাক দিয়ে অভিষেকের হুঁশিয়ারি, ‘টাকা বন্ধ করে শাস্তি দেওয়ার কথা ভাবছে বিজেপি… ৪ মে বাংলা মানুষ দেখাবেন শাস্তি কী… লকডাউন, নোটবন্দি, গ্যাসের লাইনে দাঁড় করানোর প্রতিবাদ ভোটের দিন লাইনে দাঁড়িয়ে দেবেন’।


