৪ মে-র পর পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় আসবে এবং তৃণমূলের গুন্ডাদের খুঁজে খুঁজে জেলে ভরা হবে।’ সোমবার এভাবেই বীরভূমের জনসভা থেকে তৃণমূলের উদ্দেশ্যে হুঁশিয়ারি দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। অমিত শাহ বলেন, ‘২০২১ সালের ভোটের পর এখানে আমাদের কর্মীদের উপর অনেক অত্যাচার করা হয়েছে। আপনারা মমতার সরকারকে টাটা-বাই করে দিন। কাটমানি, সিন্ডিকেটওয়ালাদের উল্টো ঝুলিয়ে সোজা করার কাজ আমরা করব।
এই রাজ্যে ৪ মে-র পর ডবল ইঞ্জিন সরকার তৈরি হবে। রাজ্যে বিকাশের নতুন যুগ শুরু হবে’। তৃণমূলের ‘গুন্ডা’দের হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘২৩ এপ্রিল ঘরে বসে থাকবেন। না হলে ৫ মে খুঁজে খুঁজে সকলকে জেলে ভরব। বোমার জবাব ব্যালটে দেবেন পশ্চিমবঙ্গের মানুষ। ভয়ের জবাব ভরসায় দেবে। বীরভূমবাসীকে বলছি, আপনারা মেশিনে পদ্মের চিহ্ন খুঁজে নিন। তৃণমূলের গুন্ডাদের আমরা খুঁজে নেব’। মমতাকে কটাক্ষ করে শাহ বলেন, ‘মহিলা মুখ্যমন্ত্রী হয়ে বাংলার মা-বোনেদের সুরক্ষা দিতে পারেন না। রাতে বাইরে কেন বেরিয়েছেন, জিজ্ঞাসা করেন!। রাত ১টাতেও মেয়েরা স্কুটিতে বেরোতে পারবে, এমন বাংলা বানাব।
কোনও আরজি কর বা দুর্গাপুর হবে না। মেয়েরা সুরক্ষিত থাকবে সর্বত্র। টাকার জন্য দুর্নীতি কে করল? ২৬ হাজার শিক্ষকের চাকরি নিয়ে দুর্নীতি কে করল? পুরনিয়োগ দুর্নীতি, রেশন দুর্নীতি, মনরেগা দুর্নীতি, প্রধানমন্ত্রীর আবাস যোজনার দুর্নীতি— তৃণমূলের আমলে শুধুই দুর্নীতি। মোদীর নেতৃত্বে বিজেপিই একে আটকাতে পারে। অনুপ্রবেশ বন্ধ করতে পারবে না তৃণমূল। আমরাই সেই কাজ করব। খুঁজে-খুঁজে অনুপ্রবেশকারীদের দেশ থেকে বার করে দেব ৪ মে-র পর’। বাংলার তৃণমূল সরকার কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকা নিয়ে দুর্নীতি করেছে বলে অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর হুঁশিয়ারি, ‘জলজীবন মিশন-এর জন্য মোদীজি কোটি-কোটি টাকা দিয়েছেন। আপনাদের কাছে তা পৌঁছোয়নি। কোথায় গেল সেই টাকা?
তৃণমূলের গুন্ডারা সেই টাকা খেয়ে নিয়েছে। ময়ূরেশ্বরে এমন রাস্তা বানিয়েছে, হাত দিয়েই তুলে ফেলা যায়। শান্তিনিকেতনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ঘর ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এরা বাংলার সংস্কৃতিকে রক্ষা করতে পারে না। মোদীজি শান্তিনিকেতনকে ইউনেস্কো-র স্বীকৃতি এনে দিয়েছেন। বাংলা ভাষাকে শাস্ত্রীয় ভাষা বানানোর কাজ মোদীজি করেছেন। ময়ূরেশ্বরে তৃণমূল অনেক অত্যাচার করেছে। আমাদের দলের কর্মীদের উপর অত্যাচার হয়েছে। ২৩ এপ্রিল ঘরে বসে থাকবেন। না হলে ৫ মে খুঁজে খুঁজে জেলে ভরব। কোনও গরিব মানুষ ঘর বানাতে চাইলে মমতার গুন্ডাদের পয়সা দিতে হয়। আপনারা মমতাকে টাটা-বাই করে দিন। কাটমানি, সিন্ডিকেটওয়ালাদের উল্টো ঝুলিয়ে সোজা করার কাজ আমরা করব। এই রাজ্যে ৪ মে-র পর ডবল ইঞ্জিন সরকার তৈরি হবে। রাজ্যে বিকাশের নতুন যুগ শুরু হবে’।

