ক্যানসার চিকিৎসায় বৈপ্লবিক বদল আনছে ‘কিট্রুডা

মারণব্যাধি ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াইতে এক নতুন আশার আলো হয়ে দেখা দিয়েছে ‘কিট্রুডা’ (Keytruda) নামক ইমিউনোথেরাপি ওষুধটি। চিকিৎসকদের মতে, প্রথাগত কেমোথেরাপির.....

মারণব্যাধি ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াইতে এক নতুন আশার আলো হয়ে দেখা দিয়েছে ‘কিট্রুডা’ (Keytruda) নামক ইমিউনোথেরাপি ওষুধটি। চিকিৎসকদের মতে, প্রথাগত কেমোথেরাপির বদলে এই ওষুধ শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে ক্যানসার কোষ ধ্বংস করতে সক্ষম। তবে ভারতে এই ওষুধের আকাশছোঁয়া দাম এবং সম্প্রতি বাজারে আসা জাল কিট্রুডা নিয়ে বড়সড় উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

ইমিউনোথেরাপির এই পদ্ধতিতে ওষুধটি সরাসরি ক্যানসার কোষকে আক্রমণ না করে শরীরের ‘টি-সেল’ বা রোগ প্রতিরোধকারী কোষগুলোকে সক্রিয় করে তোলে। ফুসফুস, জরায়ু মুখ (সার্ভিকাল), কিডনি এবং স্তন ক্যানসারের মতো কঠিন রোগ সারাতে এই ওষুধ বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। এর সবথেকে বড় গুণ হলো, এটি কেমোথেরাপির মতো শরীরের সুস্থ কোষগুলোকে নষ্ট করে না, যার ফলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অনেক কম হয়। ২০২৪ সালে বিশ্বজুড়ে এই ওষুধটি প্রায় ২৯.৫ বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা করেছে, যা এর জনপ্রিয়তার প্রমাণ দেয়।

ভারতে এই ওষুধের ব্যবহার বাড়লেও এর দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। কিট্রুডার প্রতিটি ১০০ মিলিগ্রাম ভায়ালের দাম প্রায় ১.৫ লক্ষ টাকারও বেশি। ফলে প্রতি মাসে একজন রোগীর চিকিৎসার খরচ অন্তত ৩ লক্ষ টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। যদিও প্রস্তুতকারক সংস্থার ‘পেশেন্ট অ্যাক্সেস প্রোগ্রাম’-এর অধীনে ৫টি ভায়াল কিনলে ৩০টি বিনামূল্যে পাওয়ার সুযোগ রয়েছে, তবুও মোট খরচ দাঁড়ায় প্রায় ১০ লক্ষ টাকার কাছাকাছি। রোগীদের আর্থিক বোঝা কমাতে কেন্দ্রীয় সরকার ইতিমধ্যেই এই ওষুধের ওপর থেকে আমদানিতে মূল শুল্ক তুলে নিয়েছে।

তবে সবথেকে ভীতিপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে সাম্প্রতিক এক তদন্তে। ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ভারতে কিট্রুডার একটি বড় জাল ওষুধের বাজার গড়ে উঠেছে। কিছু অসাধু চক্র ব্যবহৃত আসল ভায়ালের মধ্যেই নকল ওষুধ ভরে চড়া দামে মরিয়া রোগীদের কাছে বিক্রি করছে। এমনকি বড় হাসপাতালের কর্মীদের একাংশও এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত বলে প্রমাণ মিলেছে। এই পরিস্থিতিতে চিকিৎসকদের পরামর্শ, সরাসরি স্বীকৃত হাসপাতাল ফার্মেসি বা কোম্পানির নির্দিষ্ট প্রোগ্রাম থেকেই এই ওষুধ সংগ্রহ করা উচিত। ২০২৮ সালে এই ওষুধের পেটেন্টের মেয়াদ শেষ হলে এর সস্তা জেনেরিক সংস্করণ বাজারে আসতে পারে, যা ভারতের ক্রমবর্ধমান ক্যানসার রোগীদের জন্য বড় স্বস্তি হয়ে দাঁড়াবে।

আরও পড়ুন