মঙ্গলবার পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার খড়গপুর সদর বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী প্রদীপ সরকারের সমর্থনে নির্বাচনী প্রচার করেন তৃণমূল কংগ্রেসের ঘাটাল লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ অভিনেতা দীপক অধিকারী ওরফে দেব। নির্বাচনী সভামঞ্চে ঘাটালের সাংসদ অভিনেতা দীপক অধিকারী ওরফে দেব সহ উপস্থিত ছিলেন খড়গপুর সদর বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী প্রদীপ সরকার, খড়গপুর পৌরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান জহর পাল সহ তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যান্য নেতৃত্বরা। প্রচণ্ড গরমকে উপেক্ষা করে দেবকে দেখার জন্য হাজার হাজার মানুষ ভিড় জমিয়েছিলেন ওই নির্বাচনী সভায়। ঘাটাল লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ দীপক অধিকারী ওরফে দেব তাঁর ভাষণে বলেন, ‘আমি আপনাদের কাছে ভোট চাইতে আসিনি, আমি আশীর্বাদ চাইতে এসেছি।
‘ তিনি বিজেপির সংকল্প পত্রকে কটাক্ষ করে বলেন, ‘ভারতবর্ষের ১৭টি রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় রয়েছে। ওই রাজ্যগুলির মধ্যে কোন রাজ্যে ওই প্রকল্পগুলি চালু করেছে তা ওদের জিজ্ঞাসা করুন। ওরা বলছে ভোটে জিতলে আমরা ওই কাজগুলি করব, অথচ কেন্দ্রে তো ওরা ক্ষমতায় রয়েছে। কেন বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে ওই প্রকল্পগুলি চালু করতে পারেনি? আসলে ওরা মানুষকে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি ছাড়া অন্য কিছু দেয়নি। যে সরকার হিন্দু-মুসলিম না দেখে সবার জন্য কাজ করে, আপনারা সেই সরকারের পাশে থাকবেন।’ সেই সঙ্গে তিনি বলেন, দিদি অর্থাৎ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলার প্রতিটি মানুষের উন্নয়নে কাজ করছেন। রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর যাতে অল্প বয়সে মেয়েদের বিয়ে না হয়ে যায় এবং মেয়েরা যাতে পড়াশোনা করতে পারে, তার জন্য কন্যাশ্রী প্রকল্প চালু করেছিলেন।
যার ফলে মেয়েরা এখন পড়াশোনা করতে পারছে। সারাদেশে কন্যাশ্রী প্রকল্প প্রশংসিত হয়েছে। গরিব বাবা-মা যাতে তাঁদের মেয়ের বিয়ে দিতে পারেন, তার জন্য রূপশ্রী প্রকল্প চালু করেছেন। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার চালু করে ঘরের লক্ষ্মীদের হাতে অর্থ তুলে দিয়েছেন, যা দৃষ্টান্তমূলক বলে তিনি জানান। এছাড়াও তিনি বলেন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন কাজ রাজ্য সরকার করেছে। কেন্দ্র সরকারের বঞ্চনা সত্ত্বেও দিদি যা কথা দেন, তা তিনি করে দেখান। তাই কাজের নিরিখে বাংলায় দিদিই ক্ষমতায় আসবেন এবং মুখ্যমন্ত্রী হবেন। তিনি আরও বলেন যে, জাত-পাত বা ধর্ম নিয়ে নয়, কাজের নিরিখে আপনারা ভোট দেবেন। যদি প্রদীপ সরকার আপনাদের কাছে যোগ্য মনে হয়, আপনাদের পাশে থাকে এবং কাজের মানুষ হয়, তাহলে আপনারা তাঁকে ভোট দিয়ে আশীর্বাদ করবেন। তাই নির্বাচনী সভায় তাঁর বক্তব্য শেষ করার আগে তিনি বলেন, ‘আপনারা দিদির পাশে থাকুন, দিদি আপনাদের পাশে রয়েছে এবং আগামী দিনেও থাকবে।’


