ভোটের ঠিক আগে মহিলা ভোটব্যাঙ্কে বড় বাজি ধরল বিজেপি। ‘মাতৃ শক্তি ভরসা কার্ড’ চালু করে সরাসরি নগদ সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিলেন দলের শীর্ষ নেতা স্মৃতি ইরানি। সাংবাদিক বৈঠক থেকে তাঁর ঘোষণা, “বাংলায় বিজেপি সরকার এলে প্রত্যেক মহিলার হাতে মাসে ৩ হাজার টাকা সরাসরি পৌঁছে দেওয়া হবে।”
এই কার্ড আসলে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির ‘এনরোলমেন্ট টুল’— যেখানে নাম নথিভুক্ত করলেই ক্ষমতায় এলে সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর কথা বলছে বিজেপি। ইরানির কথায়, “এটা শুধু ভাতা নয়, মাতৃশক্তিকে অর্থনৈতিকভাবে স্বনির্ভর করার প্রতিশ্রুতি।”
একই সঙ্গে তৃণমূল সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানান তিনি। অভিযোগ, “বাংলায় কাটমানির সংস্কৃতি চলছে, কেন্দ্রীয় সাহায্য সত্ত্বেও সেই টাকা মানুষের কাছে পৌঁছচ্ছে না।” তাঁর দাবি, ২০১৪ থেকে ২০২৬— এই সময়ে কেন্দ্র থেকে রাজ্যে প্রায় ৭.২৪ লক্ষ কোটি টাকা কর-বণ্টন এবং প্রায় ৩ লক্ষ কোটি টাকা অনুদান এসেছে, তার সঙ্গে ২৪ হাজার কোটি টাকার সুদমুক্ত ঋণও দেওয়া হয়েছে। প্রশ্ন ছুড়ে ইরানির বক্তব্য, “এই টাকা গেল কোথায়?”
মনরেগা নিয়েও সরাসরি অভিযোগ তোলেন তিনি। ইরানির দাবি, “২৫ লক্ষ ভুয়ো জব কার্ড তৈরি হয়েছে— সেই টাকা কে নিল?” একই সঙ্গে তৃণমূল নেতাদের বাড়ি থেকে নগদ উদ্ধারের প্রসঙ্গ তুলে তাঁর প্রশ্ন, “জনতার টাকার এই হাল কেন?”
মহিলাদের নিরাপত্তা ইস্যুতেও সরব বিজেপি নেতৃত্ব। আরজি কর কাণ্ডের মতো ঘটনাকে সামনে এনে ইরানির অভিযোগ, “বাংলায় মহিলারা নিরাপদ নন, ভুক্তভোগী ও তাঁদের পরিবারকে পর্যন্ত ভয় দেখানো হয়।”
বিজেপির ‘সংকল্প পত্র’-এর প্রতিশ্রুতিও তুলে ধরেন তিনি— “মাসে ৩ হাজার টাকা ছাড়াও গর্ভবতী মহিলাদের ২১ হাজার টাকা সহায়তা, ৭৫ লক্ষ ‘লক্ষপতি দিদি’ তৈরি, সরকারি চাকরিতে ৩৩% সংরক্ষণ এবং গ্র্যাজুয়েশন পড়তে যাওয়া মেয়েদের আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে।”
তৃণমূলের ‘মাছ-রাজনীতি’কেও কটাক্ষ করে ইরানির মন্তব্য, “মাছ খাওয়া বন্ধ হবে— এই প্রচার পুরোপুরি ভ্রান্ত। আসল প্রশ্ন হল উৎপাদন কমছে কেন, অন্য রাজ্যের উপর নির্ভরতা বাড়ছে কেন।”
সব মিলিয়ে, নগদ সহায়তার প্রতিশ্রুতি, দুর্নীতির অভিযোগ আর মহিলা নিরাপত্তার প্রশ্ন— এই তিনকে হাতিয়ার করেই বাংলার ভোটে নতুন করে চাপ বাড়াতে চাইছে বিজেপি। এখন দেখার, ‘মাতৃ শক্তি ভরসা কার্ড’-এর প্রতিশ্রুতি ভোটবাক্সে কতটা প্রভাব ফেলে।


