ইরানের আকাশে মার্কিন মিশনের ধ্বংসস্তূপে বাড়ছে প্রশ্ন

নিখোঁজ দুই মার্কিন সেনাকে উদ্ধারের অভিযান— সরকারিভাবে সেটাই দাবি। কিন্তু স্যাটেলাইট ছবিতে উঠে আসা ধ্বংসস্তূপ যেন অন্য গল্প বলছে। ইরানের.....

নিখোঁজ দুই মার্কিন সেনাকে উদ্ধারের অভিযান— সরকারিভাবে সেটাই দাবি। কিন্তু স্যাটেলাইট ছবিতে উঠে আসা ধ্বংসস্তূপ যেন অন্য গল্প বলছে। ইরানের আকাশে ভূপাতিত এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল-এর পর শুরু হওয়া মার্কিন ‘রেসকিউ অপারেশন’ এখন ঘিরে তীব্র বিতর্ক— আদৌ কি শুধু উদ্ধার, নাকি আরও বড় কোনও গোপন লক্ষ্য ছিল?
উচ্চ-রেজোলিউশনের নতুন স্যাটেলাইট ছবিতে ইসফাহান প্রদেশের শাহরেজার কাছে একটি পরিত্যক্ত এয়ারস্ট্রিপে একাধিক মার্কিন বিমান ও হেলিকপ্টারের ধ্বংসাবশেষ স্পষ্ট। ঘটনাস্থলটি অত্যন্ত সংবেদনশীল— কাছেই রয়েছে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পরমাণু কেন্দ্র। এই অবস্থানই গোটা অপারেশন নিয়ে নতুন করে সন্দেহ উস্কে দিয়েছে।

 

মার্কিন প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই মিশনকে বলেছিলেন “সবচেয়ে সাহসী উদ্ধার অভিযানগুলির একটি”। কিন্তু বাস্তবের চিত্রে দেখা যাচ্ছে, অন্তত দু’টি সি-১৩০ হারকিউলিস পরিবহণ বিমান এবং কয়েকটি ‘লিটল বার্ড’ হেলিকপ্টার ধ্বংস হয়ে পড়ে আছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, বালুময় মরুভূমিতে আটকে পড়ায় মার্কিন বাহিনীই দুটি সি-১৩০ উড়িয়ে দেয়, যাতে প্রযুক্তি শত্রুপক্ষের হাতে না পড়ে।
কিন্তু হেলিকপ্টারগুলির ক্ষেত্রে ছবি আরও ধোঁয়াশা বাড়াচ্ছে। ইরানের দাবি, তারা সেগুলি গুলি করে নামিয়েছে। অন্যদিকে বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়ে উঠেছিল যে, মার্কিন বাহিনী নিজেরাই সেগুলি ধ্বংস করতে বাধ্য হয়। কারণ, ওই এলাকায় দীর্ঘক্ষণ থাকা মানেই ছিল বাড়তি ঝুঁকি।

 

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন তুলছে অপারেশনের ‘স্কেল’। মাত্র দু’জন সেনাকে উদ্ধারে ১৫৫টি বিমানের মোতায়েন— সামরিক মহলে এটাকে অস্বাভাবিক বলেই দেখা হচ্ছে। ইরানের সরাসরি অভিযোগ, এটি ছিল “ব্যর্থ অভিযান”— উদ্দেশ্য ছিল পরমাণু উপাদান দখল করা। যদিও ওয়াশিংটনের তরফে এ নিয়ে কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

 

স্যাটেলাইট ছবিতে আরও দেখা যাচ্ছে, ঘটনার পরপরই ইরান দ্রুত এলাকা ঘিরে ফেলে। রানওয়ের উপর মাটির স্তূপ ফেলে সেটিকে অচল করে দেওয়া হয়েছে— ভবিষ্যতে কোনও বিমান নামা বা অপারেশন চালানো যাতে অসম্ভব হয়ে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কৌশল শুধু ওই এয়ারস্ট্রিপ নয়, ভবিষ্যতে অন্যান্য সামরিক সংবেদনশীল এলাকাতেও প্রয়োগ করা হতে পারে।
সব মিলিয়ে, ‘রেসকিউ মিশন’-এর সরকারি গল্পের আড়ালে অন্য কোনও বড় কৌশল ছিল কি না— সেই প্রশ্নই এখন জোরালো। ধ্বংসস্তূপের এই ছবি যেন স্পষ্ট করে দিচ্ছে, ইরানের মাটিতে সেই রাত শুধু উদ্ধার অভিযানের ছিল না, ছিল এক অঘোষিত যুদ্ধের ছায়াও।

আরও পড়ুন