ভোটমুখী বঙ্গে এখন রাজনীতির অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে আক্ষরিক অর্থেই ‘ঝালমুড়ি’। গত সপ্তাহে ঝাড়গ্রামে নির্বাচনী প্রচারের মাঝে রাস্তার ধারের একটি সাধারণ দোকানে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঝালমুড়ি খাওয়া নিয়ে যে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছিল, এবার তা আরও চরমে পৌঁছল। বৃহস্পতিবার কৃষ্ণনগরে এক বিশাল জনসভায় দাঁড়িয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর দল তৃণমূল কংগ্রেসকে এই ইস্যুতে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন প্রধানমন্ত্রী। কটাক্ষের সুরে তিনি বলেন যে, তিনি নিজে ঝালমুড়ি খেয়েছেন ঠিকই, কিন্তু সেই মুড়ির আসল ঝাল নাকি লেগেছে তৃণমূলের গায়েই। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, এই ঝালমুড়ি বেশ কিছু মানুষকে বড়সড় ধাক্কা দিয়েছে।
আসন্ন ৪ মে নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের দিন রাজ্যে বিজেপির বিপুল জয়ের বিষয়ে দৃঢ় আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করে তিনি জানান যে, ওই দিন জয়ের আনন্দে মিষ্টির পাশাপাশি ঝালমুড়িও বিলি করা হবে।
রাজ্যে প্রথম দফার ভোটগ্রহণ চলাকালীন সমস্ত ভোটারদের শুভেচ্ছা জানিয়ে রেকর্ড সংখ্যক ভোটদানের আবেদনও জানান প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন যে, তাঁর পাঁচ দশকের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে এই প্রথমবার পশ্চিমবঙ্গের কোনো নির্বাচনে এত কম হিংসার ঘটনা ঘটতে দেখছেন তিনি, যা রাজ্যের সামগ্রিক নির্বাচনী আবহে এক বিরাট ইতিবাচক পরিবর্তন বলেই তাঁর মত।
প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রীর ঝালমুড়ি খাওয়ার ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পরেই তাকে ‘নাটক’ এবং ‘ভোটের চমক’ বলে তীব্র কটাক্ষ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রধানমন্ত্রীর মতো একজন ভিভিআইপি-র আচমকা গাড়ি থামিয়ে মুড়ি খাওয়ার সময় সেখানে এত ক্যামেরার উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি দাবি করেন যে, গোটা বিষয়টাই আগে থেকে সাজানো ছিল এবং প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এসপিজি এই পুরো চিত্রনাট্য তৈরি করেছে। এরপর বিভিন্ন জনসভা থেকেও এই ইস্যুতে সুর চড়ান তৃণমূল নেত্রী।
বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে মাছ বা মাংস খাওয়ার ওপর অঘোষিত নিষেধাজ্ঞার প্রসঙ্গ টেনে তিনি প্রশ্ন তোলেন যে, অন্যের খাদ্যাভ্যাসে নাক গলানো বিজেপি নেতারা এখন হঠাৎ করে বাংলার ঝালমুড়ি ভালোবাসতে শুরু করলেন কেন? পাশাপাশি নির্বাচনে তৃণমূল জয়ী হলে বঙ্গ সফরে আসা সমস্ত বিজেপি নেতাকে তিলের নাড়ু এবং ক্ষীরের নাড়ু পাঠানোর কথাও ঘোষণা করেন তিনি। উল্লেখ্য, ঝাড়গ্রামের ওই দোকানে দাঁড়িয়ে ঝালমুড়ি খাওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী নিজের পকেট থেকে দশ টাকা বের করে দাম মেটাতে গেলে দোকানদার তা নিতে অস্বীকার করেন, যদিও পরে প্রধানমন্ত্রীর জোরাজুরিতেই তিনি ওই টাকা গ্রহণ করেছিলেন।

