দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেষ কুমারের অপসারণের দাবিতে রাজ্যসভায় নতুন করে প্রস্তাব পেশ করল বিরোধী দলগুলো। শুক্রবার পেশ করা এই নোটিশে মোট ৭৩ জন সাংসদ সই করেছেন যা এই ধরণের প্রস্তাবের জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম ৫০টি স্বাক্ষরের চেয়ে অনেক বেশি। বিরোধীদের মূল অভিযোগ হলো আদর্শ আচরণবিধি বা মডেল কোড অফ কনডাক্ট কার্যকর করার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন চরম পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছে।
মূলত গত ১৮ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গ এবং তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ’-এর বিরুদ্ধে জমা পড়া একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে কমিশন কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষুব্ধ বিরোধীরা। কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ এবং তৃণমূলের সাগরিকা ঘোষ রাজ্যসভার সচিবের কাছে এই নোটিশ জমা দিয়েছেন। এই প্রস্তাবে সই করেছেন কংগ্রেস, তৃণমূল, সমাজবাদী পার্টি, ডিএমকে, বাম দল, শিবসেনা (ইউবিটি), এনসিপি (শারদ পওয়ার), আরজেডি সহ অন্যান্য সমমনোভাবাপন্ন দলের সাংসদরাও।
এর আগেও লোকসভা এবং রাজ্যসভায় একই ইস্যুতে প্রস্তাব পেশ করা হয়েছিল কিন্তু সেই সময় লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এবং রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সি পি রাধাকৃষ্ণন তা খারিজ করে দিয়েছিলেন। তাঁদের যুক্তি ছিল যে অভিযোগগুলো সত্য হলেও তা সংবিধানের ধারা অনুযায়ী ‘দুর্ব্যবহার’-এর আওতায় পড়ে না যা অপসারণের জন্য প্রয়োজনীয়। তবে বিরোধীরা এবার কোমর বেঁধে আসরে নেমেছে এবং তাদের অভিযোগ জ্ঞানেষ কুমার নির্বাহী বিভাগের তল্পিবাহক হিসেবে কাজ করছেন এবং কমিশনের স্বাধীনতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন।
উল্লেখ্য, এই প্রথমবার সংসদের উভয় কক্ষে একজন মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের অপসারণ চেয়ে বিরোধীরা এত বড় পদক্ষেপ নিল। এখন দেখার বিষয় রাজ্যসভার বর্তমান চেয়ারম্যান এই নতুন প্রস্তাবের ক্ষেত্রে কী সিদ্ধান্ত নেন। প্রধানমন্ত্রীর সেই ভাষণের পর বিরোধীরা দাবি করেছিল যে এটি নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘন করেছে, কিন্তু কমিশনের পক্ষ থেকে কোনো শোকজ নোটিশ বা সতর্কবার্তা না আসায় পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নিয়েছে। বর্তমানে দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে যখন প্রশ্ন উঠছে, তখন সংসদের অভ্যন্তরে বিরোধীদের এই লড়াই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।


