ভোটের মুখে ফের বড়সড় ধসের কবলে পশ্চিম বর্ধমান জেলার সালানপুর ব্লকের সামডি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা। সোমবার সকাল থেকে কয়লা উত্তোলন ও পরিবহণ স্তব্ধ করে দিয়ে স্থায়ী পুনর্বাসনের দাবিতে সরব হয়েছেন আতঙ্কিত গ্রামবাসীরা। ইসিএল কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে খনির কাজ পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছেন তাঁরা। রবিবার দুপুরে সামডি গ্রামের প্রায় ৩০০ বছরের পুরনো ‘ল হাট’ কালী মন্দিরের ঠিক সামনেই হঠাৎ জমি বসে গিয়ে ভয়াবহ ধস নামে।
মন্দিরের লাগোয়া শ্মশান এলাকাটিও এই বিপর্যয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই সংলগ্ন এলাকার একাধিক বাড়িতে ফাটল দেখা দেওয়ায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়েছে জনমানসে। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, দীর্ঘ কয়েক বছর ধরেই এই বিস্তীর্ণ অঞ্চলটি ধসপ্রবণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যে কোনো মুহূর্তে বড়সড় বিপর্যয়ে প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। সোমবার সকাল থেকেই নিজেদের নিরাপত্তা ও স্থায়ী পুনর্বাসনের দাবিতে ইসিএলের কয়লা খনির উৎপাদন ও পরিবহণ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ থমকে দেন কয়েকশো গ্রামবাসী। বিক্ষোভে শামিল হয়ে স্থানীয় তৃণমূল নেতা জনার্ধন মণ্ডল ইসিএল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, এর আগে বারবার বৈঠকেও মেলেনি সুরাহা। তাঁর কথায়, ‘অবিলম্বে পুনর্বাসন চাই।
এর আগে একাধিকবার ইসিএল আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করে পুনর্বাসনের দাবি জানানো হয়েছিলো। কর্তৃপক্ষ বারবার পুনর্বাসনের আশ্বাস দিলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি। ৩০০ বছরের পুরনো মন্দির এবং শ্মশান ঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় গ্রামবাসীদের আবেগ ও নিরাপত্তা, দুই আজ সংকটে।’ বিক্ষোভকারীদের দাবি স্পষ্ট, যতক্ষণ না ইসিএল কর্তৃপক্ষ স্থায়ী ও নিরাপদ পুনর্বাসনের লিখিত প্রতিশ্রুতি দিয়ে কাজ শুরু করছে, ততক্ষণ খনির চাকা ঘুরবে না। যদিও এই বিক্ষোভ ও ধস প্রসঙ্গে ইসিএল কর্তৃপক্ষের তরফে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। উত্তেজনা সামাল দিতে এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অচলাবস্থা কাটাতে খনি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চালানো হচ্ছে। সব মিলিয়ে ভোটের আগে ধস ও পুনর্বাসন বিতর্ক সামডিতে রীতিমতো পারদ চড়িয়েছে।


