আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের মনোনয়ন পর্ব ঘিরে সোমবার দুপুরে রণক্ষেত্র পরিস্থিতি তৈরি হয় হাওড়ায়। বাম সমর্থকরা ‘চোর’ ‘চোর’ বলে স্লোগান দিতে শুরু করলে তার তীব্র প্রতিবাদ জানান তৃণমূল সমর্থকরা। তাঁরা পাল্টা ‘জয় বাংলা’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন। অভিযোগ, এরপরই তাঁদের উপর ‘চড়াও’ হন বাম সমর্থকেরা। এই নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে ‘ধস্তাধস্তি’ শুরু হয়। ঘটনাস্থলে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী ছুটে আসে। তারাই পরিস্থিতি সামাল দেয়। এই ঘটনায় দুই দলই পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে। যদিও পুলিশের দাবি, ধাক্কাধাক্কি বা হাতাহাতি কিছুই হয়নি। কোনও পক্ষই তাদের কাছে অভিযোগ জানায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ এলে ঘটনার ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে দেখা হবে।
ঘটনায় প্রকাশ, এদিন হাওড়া জেলাশাসকের দফতরের সামনে বাম সমর্থকদের মিছিল পুলিশ আটকে দিলে তৃণমূল কর্মীদের উদ্দেশে ‘চোর, চোর’ স্লোগান দিতে শুরু করেন বাম সমর্থকেরা। এরপরই পরিস্থিতি রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে। দু’পক্ষের মধ্যে বচসা বেধে যায়। তৃণমূল সমর্থকদের গায়ে হাত তোলার অভিযোগ ওঠে। তৃণমূলের মহিলা সমর্থকদের ধাক্কা দিয়ে সরানোর অভিযোগ ওঠে। ডোমজুড় থেকে আসা জনৈক তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী শুভজিৎ ঘোষ বলেন, ‘বাম কর্মীরাই ধস্তাধস্তি করেছে। কিন্তু আমরা সৌজন্যতার খাতিরে পুলিশের সাথে সহযোগিতা করেছি। পুলিশের কাছে আমাদের দাবি ছিল এই ঝামেলা বিরত করুন। আমরা শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে চাই। আমরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চাই না। আমরা কোনও ঝামেলার মধ্যে যেতে চাই না। আমরা শুধু উন্নয়নটাই বুঝি। আমাদের মধ্যে সৌজন্যতাবোধ আছে। আমরা আগামী দিনেও এই ভাবেই এগিয়ে যেতে চাই। সিপিএম যদি খাতা শূন্য অবস্থায় এই অবস্থা করতে পারে তাহলে এরা ক্ষমতায় এলে সেখানে তারা কী পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে? এরা কোনও রাজনৈতিক দল নয়। এরা উন্নয়ন করতে পারে না। এরা শুধু মানুষে মানুষে হিংসা ধরাতে পারে। সেইজন্য বাংলা এদের শূন্য করে দিয়েছে।’
এদিকে, এই পরিস্থিতি প্রসঙ্গে প্রবীণ বাম নেতা বিশ্বনাথ সরকার বলেন, ‘এখানে পাঁচজন করে ভিতরে যাওয়ার অনুমতি ছিল। তাদের ঢুকিয়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু প্রশাসনের লোক গেট সরিয়ে দিয়েছে। ব্যারিকেড পুলিশ খুলেছে। যেখানে পাঁচজন করে অনুমতি দেওয়া আছে সেখানে বেশিজন নিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা আমাদের নেই। তবে, ধস্তাধস্তি হওয়া উচিত নয়।’
হাওড়া সিটি পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, ‘ওরা এক জায়গায় দাঁড়িয়েছিল। ওদের ৪০ জন লোক আর আটজন প্রার্থী নিয়ে আগেই ঢুকিয়ে দিয়েছিলাম। ওদেরকে আবার এইদিকে পাঠালে ট্রাফিকের সমস্যা হত। ১০০ মিটারের মধ্যে আমরা কোনও ঝামেলা চাইনি। আমরা পাঁচের বেশি কাউকে অ্যালাও করতে পারি না। এইটা আমাদের নিয়ম আছে। সেটাই করেছি। এখানে কোনও ধস্তাধস্তি হয়নি। আমাদের কাছে এমন কোনও ঝামেলার খবর নেই। কোনও অভিযোগও জমা পড়েনি।’


