বেলডাঙা থেকে মঙ্গলবার শুরু হল এক ব্যতিক্রমী নির্বাচনী প্রচার। জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীর হেলিকপ্টারে চড়ে একের পর এক জনসভায় যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করলেন। আগে বাম ও কংগ্রেসকে জোটের প্রস্তাব দিয়ে একইসঙ্গে হেলিকপ্টারে প্রচারের সুযোগ দেওয়ার টোপ দিলেও সেই প্রস্তাবে সাড়া মেলেনি। তবে তাতে তাঁর প্রচারে কোনও ভাটা পড়েনি। বরং আকাশপথেই ভোটের লড়াইয়ে নামলেন তিনি।মঙ্গলবার দুপুরে বেলডাঙার খাগরুপাড়ায় একটি সাদা-সবুজ রঙের ছোট হেলিকপ্টার নামতেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়।
মুহূর্তে সেখানে জড়ো হন শতাধিক কর্মী-সমর্থক ও কৌতূহলী মানুষ। হুমায়ুন কবীরকে এক নজর দেখতে ও তাঁর সঙ্গে ছবি তুলতে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। ‘জিন্দাবাদ’ স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে এলাকা। ভিড়ের দিকে হাত বাড়িয়ে সমর্থকদের অভিবাদন জানান হুমায়ুন, তারপর হেলিকপ্টারে চেপে ডোমকলের উদ্দেশে রওনা দেন।নিজেই জানিয়েছেন, আগামী ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত অন্তত ৫০টি বিধানসভা কেন্দ্রে প্রচার চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। এর মধ্যে প্রায় ২০টি কেন্দ্রে তাঁর সঙ্গে প্রচারে যোগ দিতে পারেন এআইএমআইএম প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি। ডোমকলের সভায় যাওয়ার পথে হুমায়ুন বলেন, এটাই তাঁর জীবনে প্রথম হেলিকপ্টার যাত্রা।
আগামী কয়েকদিন বিরতির পর ৯ থেকে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত টানা প্রচার কর্মসূচি রয়েছে বলেও জানান তিনি। মঙ্গলবার ডোমকলের সভা শেষে তিনি রেজিনগরেও সভা করেন একইভাবে আকাশপথে পৌঁছে।হুমায়ুনের এই হেলিকপ্টার ব্যবহার ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তাঁর ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গিয়েছে, হেলিকপ্টারটি দিল্লি থেকে আনা হয়েছে। যদিও সেটি কার মালিকানাধীন, ভাড়া করা হয়েছে নাকি বিনামূল্যে ব্যবহার করা হচ্ছে—সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, সাধারণত এই ধরনের হেলিকপ্টারের ভাড়া প্রতি ঘণ্টায় প্রায় তিন লাখ টাকা। ফলে গোটা প্রচারপর্বে বিপুল অর্থব্যয়ের সম্ভাবনা রয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।এই প্রসঙ্গে যোগাযোগ করা হলে হুমায়ুন কবীর স্পষ্টভাবে কোনও মন্তব্য করতে চাননি।
বরং পাল্টা প্রশ্ন করেন, হেলিকপ্টার নিয়ে এত কৌতূহলের কারণ কী। এরপরই ফোন কেটে দেন তিনি। ফলে অর্থের উৎস ও ব্যবহারের স্বচ্ছতা নিয়ে জল্পনা আরও বাড়ছে।উল্লেখযোগ্যভাবে, এর আগে অসমের গুয়াহাটির এক ব্যবসায়ী মহম্মদ নিজামের সঙ্গে হেলিকপ্টার ভাড়ার বিষয়ে চুক্তি হয়েছিল বলে জানা যায়। নিজাম জানান, তাঁর ‘রোটর হাব’ সংস্থার দুটি হেলিকপ্টারের মধ্যে একটি মাসখানেকের জন্য প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকায় দেওয়ার কথা হয়েছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে হুমায়ুন সেই চুক্তি বাতিল করে অন্য উৎস থেকে হেলিকপ্টার জোগাড় করেন।রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে হুমায়ুন কবীরের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
গত বছর মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদ নির্মাণের ঘোষণা ঘিরে বিতর্কের জেরে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব তৈরি হয়। পরবর্তীতে তাঁকে দল থেকেও সাসপেন্ড করা হয়। একই বছরের ৬ ডিসেম্বর বেলডাঙায় প্রস্তাবিত মসজিদের শিলান্যাস ঘিরেও বিতর্ক দানা বাঁধে। অনুদানের উৎস নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও সে বিষয়ে কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি তিনি।এই আবহেই নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করে নির্বাচনী ময়দানে নেমেছেন হুমায়ুন। জোট রাজনীতির প্রস্তাব ব্যর্থ হলেও হেলিকপ্টার প্রচারকে হাতিয়ার করে তিনি যে আলাদা করে নজর কাড়তে চাইছেন, তা স্পষ্ট। তবে অর্থের উৎস ও রাজনৈতিক কৌশল—দুটিই এখনও রয়ে গেছে ।


