হরমুজ অবরোধে উল্টো চাপে সৌদি

পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত ঘিরে তেল রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে, হরমুজ প্রণালী অবরোধের কৌশল নিয়ে আমেরিকাকে সরাসরি সতর্ক করেছে সৌদি.....

পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত ঘিরে তেল রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে, হরমুজ প্রণালী অবরোধের কৌশল নিয়ে আমেরিকাকে সরাসরি সতর্ক করেছে সৌদি আরব, তাদের আশঙ্কা, ইরানের তেল রপ্তানি বন্ধ করতে গিয়ে উল্টো নিজেদের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাই বিপদের মুখে পড়তে পারে, কারণ তেহরান পাল্টা কৌশল হিসেবে লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ বাব আল-মান্দেব বন্ধ করে দিতে পারে, যা এখন সৌদির তেল রপ্তানির অন্যতম ভরসা, সূত্রের খবর, সাম্প্রতিক সামরিক চাপ ও ব্যর্থ আলোচনার পর আমেরিকা হরমুজ প্রণালীতে অবরোধ জারি করে, যার উদ্দেশ্য ছিল যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরানের অর্থনীতিকে আরও চাপে ফেলা,

 

কিন্তু এই পদক্ষেপে তেলের বাজারে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যুদ্ধের শুরুতেই হরমুজে হামলা চালিয়ে ইরান প্রায় এক কোটি তিরিশ লক্ষ ব্যারেল দৈনিক তেল রপ্তানি ব্যাহত করেছিল, ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম একশো ডলার পেরিয়ে যায়, সেই পরিস্থিতি সামাল দিতে সৌদি আরব মরুভূমি পেরিয়ে তেল পাঠিয়ে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে রপ্তানির বিকল্প পথ তৈরি করেছিল, কিন্তু সেই পথও এখন ঝুঁকির মুখে, কারণ বাব আল-মান্দেব প্রণালী বন্ধ হয়ে গেলে এই বিকল্প ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে, আর তাতেই সৌদির অর্থনীতি বড় ধাক্কা খাবে, একই সঙ্গে আশঙ্কা করা হচ্ছে, ইরান ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীকে ব্যবহার করে এই জলপথে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে, অতীতে গাজা সংঘাতের সময় এই গোষ্ঠী বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় প্রভাব ফেলেছিল, ফলে পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে উঠতে পারে, যদিও প্রকাশ্যে কঠোর অবস্থান বজায় রাখলেও উপসাগরীয় দেশগুলির একাংশ,

 

বিশেষ করে সৌদি আরব, এখন আলোচনার মাধ্যমে এই অচলাবস্থা কাটানোর পক্ষেই সওয়াল করছে, তাদের মতে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে তার প্রভাব শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতির উপরও পড়বে, তাই দ্রুত কূটনৈতিক সমাধান খুঁজে বের করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, সব মিলিয়ে হরমুজ থেকে বাব আল-মান্দেব—এই দুই জলপথ ঘিরেই তৈরি হয়েছে নতুন ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েন, যেখানে একদিকে সামরিক কৌশল, অন্যদিকে অর্থনৈতিক বাস্তবতা, আর তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে সৌদি আরব আমেরিকাকে স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে—সংঘাত বাড়লে ক্ষতির মুখে পড়বে সবাই

আরও পড়ুন