বাংলায় প্রথম দফা ভোট গ্রহণের পরেই তৃণমূল এবং বিজেপি ও উভয়পক্ষ দাবি করেছিল অন্তত ১২৫ আসনে জিতছে তারাই। বাংলার ইতিহাসে প্রথমবারের জন্য প্রায় ৯৩% ভোট পড়ার পরে এখনো পর্যন্ত যে দুই দল এই ভোট কোন দিকে গিয়েছে তা নিয়ে নিশ্চিত হতে পারছে না তা আরও একবার স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে বিজেপি এবং তৃণমূল নেতৃত্বের কথায়। তবে এর মাঝেই একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নাম উচ্চারণ না করে শনিবার মমতা বলেন, ‘দেখেছেন বিজেপি কেমন খেপে গেছে! খুব চাপ, দৌড়োদৌড়ি করছে কেমন! আজ নাকি ৫০টা হেলিকপ্টার আকাশে উড়ছে। আমরা তিনটে জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছি। ওদের ৫০টা হেলিকপ্টার, ১৯টা চিফ মিনিস্টার, কেন্দ্রীয় সরকারের সব মিনিস্টার, কেন্দ্রীয় বাহিনী, সাঁজোয়া গাড়ি, ইডি-সিবিআই সব নিয়ে চলে এসেছে। আজকে আবার আমার খুব প্রিয় ভাই, মোটাভাই সিআরপিএফের, নন্দীগ্রামে যাকে ভোট লুট করতে পাঠিয়েছিল, তাকে নিয়ে মিটিংয়ে বসেছিল। মিটিং করে বলেছে, ভোট স্লো করে দাও।
লোকে যেন ভোট দিতে না পারে। এ সব আরও কিছু বলেছে। আমি এ সব আইডিয়া করছি। আমার ভবানীপুরেও দায়িত্ব দিয়েছে। আমার বয়েই গেছে। তোরা কাঁচকলা করবি আমার’। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অথবা বিজেপির তরফে বারে বারে মমতার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছে দীর্ঘ ১৫ বছর বাংলার ক্ষমতায় থাকলেও বাংলায় নাকি শিল্প আনতে পারেননি মমতা। হুগলির উত্তরপাড়ার নির্বাচনী জনসভা থেকে সেই অভিযোগ খন্ডন করে মমতা বলেন, ‘আমোদি-প্রমোদি বাবুদের বলছি, বছরে ২ কোটি চাকরি দিয়েছেন আপনারা? আমরা চাকরি দিয়েছি। দেশে ৪০ শতাংশ বেকারি বৃদ্ধি পেয়েছে। আর বাংলায় ৪০ শতাংশ বেকারি কমে গেছে।
তাই কোথাও যেতে হবে না। আপনি হাওড়া থেকে বর্ধমান, একদিন ন্যাশনাল হাইওয়ে ধরে যান। দেখবেন চারিদিকে শুধু ইন্ডাস্ট্রি আর ইন্ডাস্ট্রি। হিন্দমোটর কারখানার ৪০ একর জমি নিয়ে আমরা মেট্রো কেচের ফ্যাক্টরি বানিয়ে দিয়েছি। আগামীদিনে অনেক লোকের চাকরি হবে ওখানে। আরও অনেক শিল্প হবে। মোট ৬টি ইন্ডাস্ট্রিয়াল করিডর তৈরি হচ্ছে। লক্ষ লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগ আসছে আমাদের রাজ্যে’। বিজেপিকে নিশানা করে তৃণমূল নেত্রী বলেন, ‘বাঙালি বাংলায় কথা বললেই বাংলাদেশি? তোমাদের কী পরিচয় ভাই? কখনও ভাবি, ভাগ্যিস এখানে জন্মেছিলাম। নাহলে আমাকেও বলে দিত যে, আমিও অনুপ্রবেশকারী। মনে রাখবেন, শুধু একটা রাজ্যে এসে এইসব করছ। ভান্ডার সারা দেশে করো না কেন? বাজেটে তো নেই! এখানে এসে ভান্ডার দেওয়ার কথা মনে পড়েছে তোমাদের? বুদ্ধির গোড়ায় একটু ধোঁয়া দেওয়ার প্রয়োজন আছে ওদের’।
উত্তরপাড়ার জোড়াপুকুর মাঠে উত্তরপাড়ার তৃণমূল প্রার্থী শীর্ষাণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থনে জনসভা থেকেই সুর চড়িয়ে বলেন, ‘বাইরে থেকে লোক আসছে। যত মিটিং ওরা করে জেনে রাখুন, সব ট্রেনের করে লোক নিয়ে আসে। আমি চ্যালেঞ্জ করে বলছি। লোকাল লোক থাকে না। লোকাল লোক একশো থাকলে, ৯০০ লোক বাইরের। সব ট্রেনে করে লোক নিয়ে আসে, আর বাসে করে লোক নিয়ে আসে। কাল আমার কনস্টিটিউয়েন্সিতেও কয়েকটা বাস ঢুকেছিল। খুব ভাল করে মিষ্টি খাইয়েছি। বলেছি, আবার খাওয়াব। যা যা চায় সব খাওয়াব’। অন্যদিকে, ‘উলটো করে ঝুলিয়ে দেওয়া’ মন্তব্যের জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচনী সভায় দাঁড়িয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিংসা ও সন্ত্রাসের কথা বলেছেন বলে দাবি করেন তিনি। আইনজীবীদের উদ্দেশে মমতা বলেন, ‘কেস করবেন। আমার কাছে ভিডিও আছে।
এটা অপরাধ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এরকম কথা বলতে পারেন না। আমি যেমন বলতে পারি না, অন্যরাও বলতে পারেন না। আইন সবার জন্য এক। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর চেয়ারের একটা দায়িত্ব আছে। সেই চেয়ারে বসে কীভাবে ভরা সভা থেকে তিনি বলছেন, ঝুলিয়ে দেওয়া হবে, পা উপরে আর মাথা নিচে!’ মোদির নৌকাবিহার নিয়েও ফের কটাক্ষ করেন মমতা। তিনি বলেন, ‘আমরা ঘাটগুলি করে দিয়েছি, নিশ্চয়ই দেখতে দেখতে গিয়েছেন? তোমরা কোভিডের সময় ডেডবডি ভাসিয়ে দিয়েছিলে। মালদহে আমরা সেই বডিগুলি উদ্ধার করেছি। আমার রিকোয়েস্ট, মোদিজি আপনি তো থাকেন দিল্লিতে? সেখানে যমুনাতে গিয়ে ডুব দিয়ে আসুন না। ওটা দূষণে ভর্তি হয়ে গিয়েছে’।


