হলদিয়ায় ‘হামলা’ তত্ত্ব খারিজ! তৃণমূলের অভিযোগে সপাটে জল ঢেলে ইভিএম-কে ১০০ শতাংশ ‘ক্লিনচিট’ নির্বাচন কমিশনের

ভোট-পরবর্তী হলদিয়ায় ইভিএম লুঠ বা স্ট্রং রুমে হামলার যে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছিল রাজ্যের শাসক দল, তাতে কার্যত এক বালতি ঠান্ডা.....

ভোট-পরবর্তী হলদিয়ায় ইভিএম লুঠ বা স্ট্রং রুমে হামলার যে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছিল রাজ্যের শাসক দল, তাতে কার্যত এক বালতি ঠান্ডা জল ঢেলে দিল ভারতের নির্বাচন কমিশন শনিবার কমিশনের তরফ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হল, হলদিয়ার স্ট্রং রুম এবং ইভিএম সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রয়েছে। বিরোধীদের বিরুদ্ধে তৃণমূল কংগ্রেসের তোলা অভিযোগের ভিত্তিতে আলাদা করে কোনও কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার বা তদন্তের প্রয়োজন মনে করেনি কমিশন। উল্টে, সমস্ত নথিপত্র এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখে গোটা ভোটপ্রক্রিয়াকেই ১০০ শতাংশ ‘ক্লিনচিট’ দেওয়া হয়েছে।

কমিশনের চূড়ান্ত অবস্থান ও স্ক্রুটিনির ফলাফল:
নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা: নির্বাচন কমিশন সাফ জানিয়েছে, হলদিয়া, মহিষাদল এবং নন্দীগ্রামের ইভিএম যে স্ট্রং রুমে রাখা হয়েছে, তা ডবল-লক সিস্টেম এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া পাহারায় রয়েছে। পাশাপাশি, ২৪ ঘণ্টার সিসিটিভি নজরদারিতে কোনওরকম বহিরাগত অনুপ্রবেশের প্রমাণ মেলেনি।

 

স্বচ্ছ স্ক্রুটিনি: শুক্রবার ফর্ম ১৭-এ এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক নথিপত্র সাধারণ পর্যবেক্ষক ও প্রার্থীদের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। সেখানে নিরাপত্তায় কোনও গাফিলতি বা বেনিয়ম ধরা পড়েনি।
পুনর্নির্বাচনের জল্পনা খারিজ: বিরোধীদের বিরুদ্ধে ওঠা হামলার তত্ত্বকে আমল না দিয়ে কমিশন স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, পূর্ব মেদিনীপুরের এই কেন্দ্রগুলোতে নতুন করে পুনর্নির্বাচন বা রিপোলের কোনও প্রশ্নই ওঠে না।

 

ধোপে টিকল না তৃণমূলের অভিযোগ:
গত ২৪ এপ্রিল গভীর রাতে হলদিয়ার স্ট্রং রুমে বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা জোর করে ঢুকে পড়ার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ তুলেছিল তৃণমূল। নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নষ্ট করার অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে নিরপেক্ষ ফরেনসিক অডিট এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতায় এফআইআর দায়ের করার মতো চার দফা জোরালো দাবি জানিয়েছিল জোড়াফুল শিবির।

 

কিন্তু নির্বাচন কমিশনের এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পর তৃণমূলের সেই পাহাড়প্রমাণ অভিযোগ কার্যত খারিজ হয়ে গেল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শাসক দল ইভিএম কারচুপির যে হাওয়া তোলার চেষ্টা করেছিল, কমিশনের এই ‘ক্লিনচিট’ তাতে বড়সড় ধাক্কা দিল। অন্যদিকে, অভিযোগ থেকে সরাসরি মুক্তি পেয়ে গেরুয়া শিবিরের জন্য এটি নিঃসন্দেহে একটি বড় স্বস্তির খবর।

আরও পড়ুন