রুপোলি পর্দার প্রিয় নায়িকাকে ঘরের দরজায় দেখা যাবে, তা হয়তো ভাবতে পারেননি মগরাহাট পশ্চিমের জনগণ। ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে শুক্রবার বিকালে রাজারহাট, শেরপুর, নীলকুঠি, পঞ্চানন বাজার হয়ে গরখালী মোড় থেকে বানেশ্বর পুর, ঘলার মোড় হয়ে উস্থি বাজার পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী সামিম আহমেদের সমর্থনে টলিউড অভিনেত্রী শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়ের উপস্থিতি রোড শো ঘিরে তৈরি হলো তুমুল উন্মাদনা। প্রিয় তারকাকে একঝলক দেখতে এবং তাঁর সঙ্গে সেলফি তুলতে মহিলাদের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। তৃণমূল প্রার্থী ও অভিনেত্রী পৌঁছানো মাত্রই উলুধ্বনি ও পুষ্পবৃষ্টিতে তাঁকে বরণ করে নেয় কর্মী-সমর্থকরা।
তৃণমূল প্রার্থী সামিম আহমেদকে প্রশংসা করে শ্রাবন্তী বলেন, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো মাটির মানুষ আমি দেখিনি। তাঁর পছন্দ করা এই প্রার্থী জয়ী হলে এলাকার চেহারা বদলে দেবে। সামিম আহমেদ তাঁর ভাষণে এসআরএস ইস্যু ও ধর্মীয় রাজনীতি নিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শোনান। তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি ধর্মকে সামনে রেখে রাজনীতি করছে এবং সমাজে বিভাজন তৈরি করছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী একজন মহিলা হয়েও মহিলাদের জন্য লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প চালু করেছেন। বিজেপি মহিলাদের জন্য কী করেছে, সেটা মানুষ জানে। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, ডবল ইঞ্জিন সরকার দলিত ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের উপর অত্যাচার চালাচ্ছে এবং তাদের অধিকার খর্ব করা হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণ্ণ করা হচ্ছে।
বিরোধীদের কটাক্ষ করে অভিনেত্রী বলেন, ‘পয়সা দিয়ে মানুষ কেনা যায় না, মানুষের ভালোবাসাই সবচেয়ে বড় শক্তি, এই জনজোয়ারই তার প্রমাণ। তৃণমূল সারা বছর মানুষের পাশে থাকে, তাই মানুষ আমাদের সঙ্গে আছে’। এদিনের সভা থেকে অভিনেত্রী দাবি করেন, ২০২৬ সালের নির্বাচনে তৃণমূল ২৪০ এর বেশি আসন পাবে এবং মগরাহাট পশ্চিমে ও রেকর্ড ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হবে। উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক নেতৃত্বরা। সামিম আহমেদের সমর্থনে এই সভাকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়।


