রাস্তায় জমা জল গাড়ির চাকা থেকে ছিটকে গায়ে পড়াকে কেন্দ্র করে চরম বচসা এবং মারধরের অভিযোগ। আর সেই ঘটনাতেই প্রাক্তন ক্রিকেটার তথা তৃণমূল সাংসদ ইউসুফ পাঠানের শ্বশুর ও তাঁর দুই আত্মীয়কে গ্রেফতার করল মুম্বই পুলিশ। মঙ্গলবার পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, মুম্বইয়ের বাইকুল্লা এলাকায় এক ব্যক্তি এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের ওপর বাঁশ ও বেসবল ব্যাট নিয়ে হামলার অভিযোগে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়েছে। এই ঘটনায় যুক্ত আরও এক অভিযুক্ত পলাতক, তাঁর খোঁজে জোরদার তল্লাশি চলছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার সূত্রপাত গত শনিবার। স্থানীয় বাসিন্দা ইউসুফ খান নামে এক ব্যক্তি গাড়ি চালিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। সেই সময় রাস্তার গর্তে জমে থাকা জল ছিটকে পড়ে সাংসদ ইউসুফ পাঠানের শ্বশুরবাড়ির আত্মীয় শোয়েব খানের গায়ে। অভিযোগ, এর জেরেই গাড়ি থামিয়ে ইউসুফ খানের সঙ্গে তুমুল তর্কাতর্কিতে জড়িয়ে পড়েন শোয়েব। তাঁকে গালিগালাজ করার পাশাপাশি বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে গাড়ির কাঁচ ভেঙে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এমনকি মাঝরাস্তায় তাঁকে শারীরিক নিগ্রহও করা হয়।
এই ঘটনার পরই থানায় অভিযোগ দায়ের করতে যাচ্ছিলেন আক্রান্ত ইউসুফ খান। অভিযোগ, সেই সময় মাঝরাস্তায় তাঁকে আটকে দেয় ইউসুফ পাঠানের শ্বশুর খালিদ খান, তাঁর ছেলে উমরশাদ খান, শোয়েব খান এবং শাহবাজ পাঠান। এরপরই ওই চার জন মিলে ইউসুফ খান ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ওপর বাঁশ এবং বেসবল ব্যাট নিয়ে অতর্কিতে চড়াও হয়। বেধড়ক মারধরের জেরে ইউসুফের ভাই সলমানের হাত ভেঙে যায় এবং তাঁর কাকা জাকি আহমেদ গুরুতর জখম হন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
আক্রান্তদের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নামে পুলিশ।
এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান এবং হামলায় ব্যবহৃত বাঁশ ও বেসবল ব্যাট উদ্ধারের পর তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) অধীনে হামলা, গুরুতর আঘাত ও বেআইনি কার্যকলাপের একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে। ধৃতদের আদালতে পেশ করা হলে বিচারক তাঁদের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। গোটা ঘটনার তদন্ত জারি রেখেছে পুলিশ।


