এক্সপ্রেসওয়ের বুকে ‘স্বাভিমান’-এর কাঁটা! গাজিয়াবাদে চিনা কায়দায় রাস্তার মাঝেই অটল বাড়ি, বিপাকে হাইওয়ে কর্তৃপক্ষ

দিল্লি-দেরাদুন এক্সপ্রেসওয়ের ঝকঝকে রাস্তার ওপর দিয়ে গাড়ি যখন ১০০ কিমি গতিতে দৌড়োচ্ছে, ঠিক তখনই গাজিয়াবাদের মন্দোলা গ্রামে এসে চালকদের চোখ.....

দিল্লি-দেরাদুন এক্সপ্রেসওয়ের ঝকঝকে রাস্তার ওপর দিয়ে গাড়ি যখন ১০০ কিমি গতিতে দৌড়োচ্ছে, ঠিক তখনই গাজিয়াবাদের মন্দোলা গ্রামে এসে চালকদের চোখ কপালে উঠছে। কারণ, সার্ভিস রোডের ঠিক মাঝখানে সটান দাঁড়িয়ে আছে একটি দোতলা অট্টালিকা। বাড়ির নামটিও বেশ লাগসই— ‘স্বাভিমান’। চিনের সেই বিখ্যাত ‘নেল হাউস’ বা ‘পেরেক বাড়ি’র কথা মনে আছে? যেখানে জমির মালিকরা ভিটে ছাড়তে রাজি না হওয়ায় প্রশাসন বাধ্য হয়ে আস্ত হাইওয়েটিই বাড়ির চারপাশ দিয়ে ঘুরিয়ে দিয়েছিল। ভারতের মাটিতেও এখন ঠিক সেই চিনা চিত্রনাট্যেরই পুনরাবৃত্তি দেখা যাচ্ছে।

 

প্রায় ১,৬০০ বর্গমিটার এলাকা জুড়ে দাঁড়িয়ে থাকা এই বাড়িটি এখন ১২-১৩ হাজার কোটি টাকার দিল্লি-দেরাদুন এক্সপ্রেসওয়ের পথে এক মস্ত বড় বাধা। ১৯৯৮ সাল থেকে চলা এক দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের জেরে এই বাড়ির এক ইঞ্চি জমিও ছাড়তে নারাজ মালিকপক্ষ। বর্তমান বাজার দরে ক্ষতিপূরণ না পাওয়া পর্যন্ত তাঁরা এক পা-ও নড়বেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের স্থগিতাদেশের জেরে এই বাড়িতে হাত দেওয়ার কোনও উপায় নেই ন্যাশনাল হাইওয়ে অথরিটির।

 

ফলে ২১৩ কিমির এক্সপ্রেসওয়ে চালু হয়ে গেলেও স্রেফ একগুঁয়ে এই ‘স্বাভিমান’-এর সামনে এসে থমকে যাচ্ছে সার্ভিস রোডের কাজ। চিনের সেই জেদি বাড়িওয়ালা ইয়ে ইউশু যেমন শেষমেশ কোলাহল আর নিঃসঙ্গতার চাপে পস্তাতে শুরু করেছিলেন, গাজিয়াবাদের এই বাড়ির মালিকের কপালে শেষ পর্যন্ত কী জুটবে, তা নিয়ে এখন সরগরম উত্তরপ্রদেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহল। একদিকে উন্নয়নের গতি আর অন্যদিকে ভিটেমাটির জেদ—এই লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত জয় কার হবে, সেটাই এখন দেখার।

আরও পড়ুন