ডিগ্রি আছে, কিন্তু হাতুড়ি ধরা আসে তো? ইন্টার্নশিপের আকালে ভারতের বাজারে এখন ‘ট্রেনি’রাই ত্রাতা!

হাতে বিটেক ডিগ্রি, কিন্তু হাতুড়ি বা ড্রিল মেশিন ধরলে কাঁপে—ভারতের বেকারত্বের বাজারে এটাই এখন সবথেকে বড় পরিহাস। ইন্টার্নশিপের সেই পুরনো.....

হাতে বিটেক ডিগ্রি, কিন্তু হাতুড়ি বা ড্রিল মেশিন ধরলে কাঁপে—ভারতের বেকারত্বের বাজারে এটাই এখন সবথেকে বড় পরিহাস। ইন্টার্নশিপের সেই পুরনো রমরমা জমানা এখন কার্যত মিউজিয়ামে যাওয়ার পথে। আগে যেখানে ইন্টার্নশিপ ছিল কাজের দুনিয়ায় প্রবেশের আসল চাবিকাঠি, সেখানে এখন জায়গা করে নিয়েছে ‘ট্রেনি’ সংস্কৃতি।

 

নামটা শুনতে একটু কায়দা-মাফিক হলেও, আদতে এটি হলো স্বল্প খরচে কাজ করিয়ে নেওয়ার এক আধুনিক কর্পোরেট কৌশল। ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে শুরু করে আইন বা সাংবাদিকতা—সব জায়গাতেই ছবিটা কমবেশি একই। প্রতি বছর দেশজুড়ে প্রায় ১৫ লাখ ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়া কলেজ থেকে বেরোচ্ছেন ঠিকই, কিন্তু ইন্টার্নশিপের অভাবে তাঁদের ঝুলিতে কাজের ব্যবহারিক জ্ঞান থাকছে শূন্য। ফলে দেখা যাচ্ছে, প্রায় ৮৩ শতাংশ ইঞ্জিনিয়ারিং গ্র্যাজুয়েটই চাকরির প্রথম ধাপেই বাতিল হয়ে যাচ্ছেন।

 

খোদ সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, ২৫ বছরের নিচে থাকা গ্র্যাজুয়েটদের প্রায় ৪০ শতাংশই আজ বেকার। এই ব্যবধান ঘোচাতে মোদী সরকারের ১২ হাজার কোটি টাকার ‘পিএম ইন্টার্নশিপ স্কিম’ ময়দানে নামলেও গত দু’বছরে তা কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে—আবেদনকারীদের মাত্র ০.৫৮ শতাংশ শেষ পর্যন্ত ইন্টার্নশিপের শংসাপত্র হাতে পেয়েছেন। আগামী মার্চ মাস থেকে সরকার স্টাইপেন্ড ৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৯ হাজার করার সিদ্ধান্ত নিলেও, ইন্টার্নশিপের এই ‘খরা’ তাতে কতটা মিটবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। অভিজ্ঞ মহলের দাবি, কর্পোরেট দুনিয়ায় এখন আর ইন্টার্নদের হাতে ধরে শেখানোর মতো সময় বা ধৈর্য নেই।

 

বরং নামী কলেজের ট্যাগ বা উপরতলার ব্যক্তিগত যোগাযোগ থাকলে তবেই বড় সংস্থায় ঢোকার সুযোগ মিলছে। সাধারণ ঘরের মেধার সামনে এখন বড় দেওয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছে এই ‘কন্টাক্ট’ কালচার। আসলে ইন্টার্নশিপের বাজার এখন ‘প্রিভিলেজ’ বা সুযোগ-সুবিধার দাপটে বন্দি। কলেজের শেষ সেমিস্টারে নামমাত্র টাকায় ‘ট্রেনি’ হিসেবে যোগ দেওয়াটা এখন একরকম অলিখিত নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে সংস্থাগুলো সস্তায় শিক্ষিত শ্রমিক পায় আর কলেজগুলো ১০০ শতাংশ ‘প্লেসমেন্ট’ দেখানোর নাম করে নিজেদের মান বাঁচায়। মাঝখান থেকে মার খাচ্ছে সেইসব পড়ুয়ারা, যাদের সিভিতে স্রেফ জিপিএ-র নম্বর আছে, কিন্তু কোনও ল্যাব বা অফিসের রিয়েল-টাইম অভিজ্ঞতার গন্ধ নেই।

আরও পড়ুন