রাজনীতির ময়দানে দলবদল নতুন কিছু নয়, তবে সেই দলবদলের ধাক্কায় যদি সোশ্যাল মিডিয়ার সাম্রাজ্য রাতারাতি ধসে পড়ে, তবে তা নিঃসন্দেহে নেতা-মন্ত্রীদের মাথাব্যথার কারণ। আম আদমি পার্টি ছেড়ে বিজেপিতে নাম লেখাতেই এবার ঠিক সেই চরম অস্বস্তির মুখেই পড়লেন তরুণ প্রজন্মের ‘হার্টথ্রব’ নেতা রাঘব চাড্ডা। হিসাব বলছে, গেরুয়া শিবিরে যোগ দেওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ইনস্টাগ্রামে প্রায় ১০ লক্ষ ফলোয়ার বা অনুগামী খুইয়েছেন এই দাপুটে রাজ্যসভা সাংসদ। শুক্রবার যেখানে তাঁর ফলোয়ার সংখ্যা ছিল ১.৪৬ কোটি, শনিবার দুপুর ১টার মধ্যেই তা হুড়মুড়িয়ে নেমে দাঁড়িয়েছে ১.৩৫ কোটিতে। ডিজিটাল দুনিয়ায় জনপ্রিয়তার এই পারদ-পতনের নেপথ্যে মূলত ‘জেন-জি’ বা তরুণ প্রজন্মের ক্ষোভকেই বড় কারণ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
একসময় সংসদে ট্রাফিক সমস্যা, বিমানবন্দরে মহার্ঘ শিঙাড়া কিংবা ১০ মিনিটে ডেলিভারির জেরে গিগ-কর্মীদের হয়রানির মতো দৈনন্দিন ইস্যু তুলে ধরে তরুণদের নয়নের মণি হয়ে উঠেছিলেন পরিণীতি-পতি। কিন্তু বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর সেই তরুণরাই এখন তাঁর বিরুদ্ধে ইনস্টাগ্রামে ‘আনফলো’ বা বয়কটের ঝড় তুলেছেন। ট্রেন্ডিং তালিকায় এখন রীতিমতো উপরের দিকে ঘুরছে ‘আনফলো রাঘব চাড্ডা’ হ্যাশট্যাগ। এনসিপি (শরদ পওয়ার গোষ্ঠী) মুখপাত্রের কথায়, ইন্টারনেট যেমন কাউকে রাতারাতি হিরো বানাতে পারে, তেমনই মাটিতেও নামিয়ে আনতে পারে। অন্যদিকে, বিজেপিতে যোগ দিয়েই নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সমালোচনা করা পুরনো সমস্ত পোস্ট মুছে ফেলার অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।
আপ নেতা সৌরভ ভরদ্বাজের কটাক্ষ, রাঘবের টাইমলাইনে এখন মোদী-স্তুতির মাত্র দুটি পোস্টই টিকে রয়েছে। সব মিলিয়ে, যে সোশ্যাল মিডিয়া এবং তরুণ প্রজন্মের ভরসায় রাঘব চাড্ডা রাজনীতির আকাশে উল্কা হয়ে উঠেছিলেন, দলবদলের জেরে সেই ডিজিটাল ভোটব্যাঙ্কই এখন তাঁর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।
ইন্টারনেটের দুনিয়া যে রাতারাতি কাউকে হিরো থেকে জিরো বানিয়ে দিতে পারে, রাঘবের এই ফলোয়ার-পতন কি তারই সবচেয়ে বড় প্রমাণ নয়? আপনার কী মনে হয়, তরুণ প্রজন্মের এই ডিজিটাল ক্ষোভ কি আগামী দিনে তাঁর নতুন রাজনৈতিক ইনিংসে বড়সড় ধাক্কা দেবে?


