অভিষেক-কাণ্ডে রাতভর পুলিশি অভিযান, গ্রেফতার ৬

সোনারপুরের কামরাবাদে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে জোরদার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। শনিবারের.....

সোনারপুরের কামরাবাদে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে জোরদার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। শনিবারের এই ঘটনায় রাতভর তল্লাশি চালিয়ে ইতিমধ্যেই ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। ঘটনাটি রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

 

পুলিশ জানিয়েছে, যদিও এখনও পর্যন্ত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বা তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়নি, তবুও ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে সোনারপুর থানার পক্ষ থেকে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করা হয়েছে। শনিবার বিকেলে এক মৃত দলীয় কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে কামরাবাদে যান অভিষেক। সেই সময় আচমকাই একদল বিক্ষোভকারী তাঁকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখায় বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং ধাক্কাধাক্কি, জামা টেনে ধরা ও শারীরিক হেনস্থার ঘটনাও ঘটে বলে দাবি করা হয়েছে।

 

ঘটনার পরপরই পুলিশ তদন্তে নামে। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ, স্থানীয় বাসিন্দাদের মোবাইলে ধারণ করা ভিডিও এবং বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত দৃশ্য খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়। এরপর রাতভর অভিযান চালিয়ে আকাশ গায়েন, কাজল দাস, দেবাশিস দত্ত, নির্মাল্য সেনগুপ্ত, তপন মাইতি-সহ মোট ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতরা সকলেই রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা।

 

তদন্তকারীদের দাবি, ভিডিও ফুটেজে কয়েকজনকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের খুব কাছাকাছি গিয়ে বিক্ষোভ ও হেনস্থা করতে দেখা গিয়েছে। বিশেষ করে আকাশ গায়েনের ভূমিকা নিয়ে তদন্তকারীরা বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। তিনি মৃত তৃণমূল কর্মীর পরিবারের ঘনিষ্ঠ বলেও জানা গিয়েছে।

 

পুলিশ এখন খতিয়ে দেখছে, ঘটনাটি শুধুই তাৎক্ষণিক ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ছিল নাকি এর পিছনে কোনও পূর্বপরিকল্পনা বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য কাজ করেছে। ধৃতদের মোবাইল ফোন, যোগাযোগের তথ্য এবং ঘটনার আগের গতিবিধিও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। পাশাপাশি প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান সংগ্রহ করা হচ্ছে।

 

এই ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এত গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতার সফরে নিরাপত্তায় কোনও ঘাটতি ছিল কি না, তা নিয়েও প্রশাসনিক স্তরে পর্যালোচনা শুরু হয়েছে। বারুইপুর পুলিশ জেলার কর্তাদের ভূমিকা সম্পর্কেও অভ্যন্তরীণভাবে রিপোর্ট তলব করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

 

রবিবার ধৃতদের বারুইপুর মহকুমা আদালতে তোলা হবে। তদন্তকারীরা তাঁদের পুলিশি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন জানাতে পারেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, অভিযুক্তদের একাংশের তৃণমূল ঘনিষ্ঠ পরিচয় সামনে আসায় ঘটনাটি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এখন তদন্তে নতুন কী তথ্য উঠে আসে, সেদিকেই নজর রাজ্যের রাজনৈতিক মহলের।

আরও পড়ুন