শিলা বৃষ্টিতে বিধ্বস্ত কুমারগঞ্জ : প্রকৃতির তাণ্ডবে লন্ডভন্ড ঘরবাড়ি ও ফসল

হঠাৎ করে আকাশে কালো মেঘের ঘনঘটা। কোন কিছু বুঝে ওঠার আগেই শুরু হয় ব্যাপক শিলা বৃষ্টি। একটানা ৫০ মিনিট শিলাবৃষ্টির.....

হঠাৎ করে আকাশে কালো মেঘের ঘনঘটা। কোন কিছু বুঝে ওঠার আগেই শুরু হয় ব্যাপক শিলা বৃষ্টি। একটানা ৫০ মিনিট শিলাবৃষ্টির তাণ্ডবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার কুমারগঞ্জ ব্লকের বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী ২ নম্বর সমজিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের বিভিন্ন এলাকা। এত বড় বড় আকারের শিলা বৃষ্টিতে মানুষজন ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে যায় এবং টিন ও অ্যাজবেস্টার দিয়ে তৈরি বাড়িঘর ভেঙ্গে ও ফুটো হয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

 

ঘটনার সূত্রপাত মঙ্গলবার বিকেল তিনটে নাগাদ। টানা ৫০ মিনিট ধরে শিলাবৃষ্টির তাণ্ডবের পর ধীরে ধীরে পরিস্থিতি শান্ত হয়ে আসে। সমজিয়া গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান ধনো রায় বলেন ,আমার নিজের গ্রাম সহ আশেপাশের বিভিন্ন গ্রামে ব্যাপক শিলাবৃষ্টির তাণ্ডব হয়েছে। মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কত হবে তা বুধবার সরজমিন তদন্ত করে জানা যাবে। তবে ক্ষতি যে বড় মাপের হবে সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। প্রধান ধনো রায় আরো জানান, বুধবার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ও সর্বশেষ পরিস্থিতি কুমারগঞ্জের বিডিও সাহেবকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ত্রাণ সামগ্রী দেওয়ার জন্য ও কৃষকদের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি দেখার জন্য অনুরোধ জানাবো।

 

মঙ্গলবার বিকেলের ব্যাপক শিলাবৃষ্টিতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় সমজিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসন্তী , দাউদপুর , কৃষ্ণপুর , সমজিয়া বালুপাড়া , রসুলপুর ও তার পার্শ্ববর্তী বৈদ্যনাথ ধাম ,রায়নন্দা, মোল্লাদিঘি, কুতুবপুর, চক জয়ন্তী ইত্যাদি এলাকা। বাসন্তী হেদায়েতুল্লাহ হাই মাদ্রাসার শিক্ষক তথা প্রত্যক্ষদর্শী মোমিনুল হক সরকার বলেন, চোখের সামনে টানা ৫০ মিনিট ধরে ব্যাপক হারে শিলাবৃষ্টি প্রত্যক্ষ করলাম। মাদ্রাসা প্রাঙ্গণ শিল পড়ে কার্যত ভরে গিয়েছিল। একটি শিলের ওজন ২০ গ্রাম থেকে শুরু করে ১৪৫ গ্রাম পর্যন্ত। প্রায় ঘন্টাখানেক ধরে ব্যাপক শিলাবৃষ্টির ফলে মাঠে এখনো যে সমস্ত পাকা গম ছিল সেগুলোর বিরাট ক্ষতি হয়েছে । পাশাপাশি বোরো ধানে সবে শিষ বের হতে শুরু হয়েছে, সেগুলিও ভীষণ ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। এছাড়া গাছের আম , লিচু , কাঁঠাল ও অন্যান্য সবজি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

 

অনেক মানুষের টিনের বাড়ির টিন ফুটো হয়ে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। আবার কোন কোন বাড়িতে ছাদের অ্যাজবেস্টার ভেঙে পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গিয়েছে । এছাড়া মাঠে যে সমস্ত ছাগল চরতে গিয়েছিল সেগুলির কয়েকটি গুরুতর আহত হয়েছে। সব মিলিয়ে বাড়িঘর , মাঠের ফসল , আম , কাঁঠাল , লিচু ইত্যাদি সহ মঙ্গলবারের শিলাবৃষ্টিতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেশ কয়েক লক্ষ টাকা হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে । প্রধান ধনো রায় আরো বলেন , সমজিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রতিটি জনপ্রতিনিধিকে তাদের নিজ নিজ এলাকায় কি কি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা আগামীকালের মধ্যে দ্রুত জানাতে বলা হয়েছে।

 

দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পরিষদের সদস্য ও ক্ষতিগ্রস্ত কুতুবপুর গ্রামের বাসিন্দা ইরা রায় উদ্বেগের সঙ্গে জানালেন , মঙ্গলবারের শিলাবৃষ্টিতে আমার নিজেরও কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং এই গ্রামের সমস্ত গরিব মানুষের বাড়ি ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।পুনরায় বৃষ্টি হলে কিভাবে তারা রাত কাটাবেন, ভেবে খুব কষ্ট হচ্ছে
বিষয়টি নিয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে কুমারগঞ্জের নবনিযুক্ত বিডিও শুভঙ্কর সাহা জানালেন, যে সমস্ত মানুষ গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং যাদের বাসযোগ্য ঘর ভীষণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তারা সরাসরি কুমারগঞ্জ বিডিও অফিসে যোগাযোগ করলে জরুরী ভিত্তিতে তাদেরকে ত্রাণ সামগ্রী দেওয়া হবে। এছাড়াও সমস্ত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা গেলে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

আরও পড়ুন