‘উল্টো ঝুলিয়ে সোজা করার’ হুঁশিয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাহের

ভোট যত এগোচ্ছে, ততই বেলাগাম হচ্ছে শব্দবাণ। এবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ‘উল্টো ঝুলিয়ে সোজা করে দেব’—এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে.....

ভোট যত এগোচ্ছে, ততই বেলাগাম হচ্ছে শব্দবাণ। এবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ‘উল্টো ঝুলিয়ে সোজা করে দেব’—এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন বাগযুদ্ধে জড়িয়ে পড়লেন বিজেপি-র দ্বিতীয় প্রধান এবং তৃণমূলের সর্বোচ্চ নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার হাওড়ার শ্যামপুরের জনসভা থেকে শাহ তাঁর সেই পরিচিত হিন্দি প্রবাদ ‘উল্টা লটকা কর সিধা কর দেঙ্গে’ আওড়ে কার্যত হুঁশিয়ারি দেন তৃণমূলের ক্যাডারদের।

 

সাধারণত অপরাধীদের দমাতে হিন্দি বলয়ের পুলিশ এই ভাষা ব্যবহার করলেও, ভোটের ময়দানে শাহের মুখে এই কথা শুনে পাল্টা তোপ দেগেছেন মমতা। উত্তরপাড়ার সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতো সাংবিধানিক পদে বসে কেউ এমন হিংসাত্মক কথা বলেন কী করে! মমতার দাবি, এই ধরনের মন্তব্য অপরাধের শামিল এবং তিনি আইনজীবী ও বুদ্ধিজীবীদের অনুরোধ করবেন এই ভাষার বিরুদ্ধে মামলা করার জন্য। যদিও শাহ এই আক্রমণের পাল্টা জবাব দিতে সময় নেননি।

 

শ্যামপুরের মঞ্চ থেকে তিনি পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দেন, ‘দিদি, আমি যদি দুষ্কৃতীদের ভয় দেখাই, আপনি কেন চটছেন? আমি কি ওদের আদর করব?’ সেই সঙ্গে তৃণমূল নেত্রীকে পরামর্শ দেন যাতে তিনি তাঁর ‘গুণ্ডাদের’ ঘরে বসিয়ে রাখেন, নচেৎ ফল ভালো হবে না। বিজেপি শিবিরের একাংশের বিশ্বাস, প্রথম দফার ভোটে যে বড় ধরনের কোনো অশান্তি হয়নি, তার পেছনে শাহের এই দাওয়াই কাজ করেছে। এদিনের সভা থেকে শাহ আরও এক ধাপ এগিয়ে বলেন, ২৯ এপ্রিল যদি তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা রাস্তায় নামে, তবে ৪ মে ফল প্রকাশের দিন তাদের উল্টো ঝুলিয়ে সোজা করা হবে। ওদিকে বর্ধমানের জামালপুরে প্রচার সারতে গিয়ে জয়ের ব্যাপারেও বড় দাবি করেছেন শাহ। তাঁর দাবি, প্রথম দফার ১৫২টি আসনের মধ্যে বিজেপি ১১০টির বেশি আসন পকেটে পুরছে।

 

জয়ের পর মোদীজিকে বর্ধমানের বিখ্যাত সীতভোগ খাইয়ে উদযাপন করার আগাম ঘোষণাও সেরে রেখেছেন তিনি। এদিকে রবিবার দ্বিতীয় দফার আগে দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রেও হাইভোল্টেজ প্রচার চোখে পড়ল। শম্ভুনাথ পণ্ডিত স্ট্রিট থেকে কালীঘাট পর্যন্ত মমতা যখন রাজপথ কাঁপিয়ে মিছিল করছেন, ঠিক সেই সময়েই ভবানীপুরের গলিতে গলিতে জনসংযোগ সারলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। ভোটের বাংলায় একদিকে শাহের পেশির আস্ফালন আর অন্যদিকে মমতার আইনি লড়াইয়ের হুঁশিয়ারি—সব মিলিয়ে নির্বাচনের পারদ এখন সপ্তমে। ৪ মে-র ব্যালট বক্সই শেষ পর্যন্ত বলবে, সাধারণ মানুষ কার ভাষায় সিলমোহর দিলেন।

আরও পড়ুন