রাজ্যসভায় নয়া সমীকরণ: আপ-এর ৭ সাংসদ বিজেপিতে মিশতেই ‘পদ্ম’ ফুটল ১১৩-তে!

রাজ্যসভার অঙ্ক নিয়ে এবার দিল্লির রাজনীতিতে কার্যত নয়া ভূকম্পন। সোমবার প্রকাশিত রাজ্যসভার নয়া দলীয় সমীকরণ অনুযায়ী, আম আদমি পার্টির ৭.....

রাজ্যসভার অঙ্ক নিয়ে এবার দিল্লির রাজনীতিতে কার্যত নয়া ভূকম্পন। সোমবার প্রকাশিত রাজ্যসভার নয়া দলীয় সমীকরণ অনুযায়ী, আম আদমি পার্টির ৭ জন সাংসদ আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ দেওয়ায় উচ্চকক্ষে শাসক শিবিরের পালে জোর হাওয়া লেগেছে। রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সি পি রাধাকৃষ্ণন এই সাত সাংসদের বিজেপিতে মিশে যাওয়ার সিদ্ধান্তে সিলমোহর দিতেই, আপ-এর ১০ জনের শক্তিশালী টিম নিমেষে তিনজনে নেমে এসেছে। অন্যদিকে, রাজ্যসভায় বিজেপির শক্তি একলাফে ১০৬ থেকে বেড়ে ১১৩-তে পৌঁছে গিয়েছে, যা ২৪৫ আসনের এই কক্ষে শাসক দলকে অনেকটাই স্বস্তি দেবে।

 

​আপ-এর যে ৭ জন ‘বিদ্রোহী’ সাংসদ গেরুয়া শিবিরে নাম লিখিয়েছেন তাঁরা হলেন— অশোক কুমার মিত্তল, রাঘব চাড্ডা, হরভজন সিং, সন্দীপ কুমার পাঠক, বিক্রমজিৎ সিং সাহনি, স্বাতী মালিওয়াল এবং রাজিন্দর গুপ্ত। বিজেপির খাতায় এঁরা এখন ১০৭ থেকে ১১৩ নম্বর সদস্য হিসেবে জায়গা করে নিয়েছেন। এর ফলে, রাজ্যসভায় বর্তমানে এনডিএ-র মোট সাংসদ সংখ্যা দাঁড়াল ১৪৮-এ। এই জোটে বিজেপির ১১৩ জন ছাড়াও রয়েছে টিডিপি (২), জেডিইউ (৪), শিবসেনা (২), এনসিপি (৪) এবং এআইএডিএমকে (৫)-সহ অন্যান্য শরিক দলের সমর্থন। অন্যদিকে, এই বড়সড় ভাঙনের পর রাজ্যসভায় আপ-এর অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার দায়িত্ব এখন কেবল সঞ্জয় সিং, নারায়ণ দাস গুপ্ত এবং সন্ত বলবীর সিং-এর কাঁধে।

 

​দলত্যাগ বিরোধী আইন এবং ‘সংযুক্তি’র অঙ্ক:
আপ সাংসদদের এই দলবদলে কেন তাঁদের সদস্যপদ খারিজ হলো না, তা বুঝতে গেলে একটু সংবিধানের পাতায় চোখ রাখতে হবে। ২০০৩ সালের ৯১তম সংবিধান সংশোধনী অনুযায়ী, দলত্যাগ বিরোধী আইন থেকে বাঁচতে হলে দলের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদকে একজোট হয়ে অন্য দলে মিশে যেতে হবে। আপ-এর ১০ জন সাংসদের মধ্যে ৭ জন (অর্থাৎ, দুই-তৃতীয়াংশের বেশি) একযোগে বিজেপিতে যোগ দেওয়ায় তাঁদের এই পদক্ষেপকে আইনি ভাষায় ‘সংযুক্তি’ বা মার্জার হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। ফলে, এই সাংসদদের বিরুদ্ধে দলত্যাগের অভিযোগে কোনও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না। ঠিক যেমনটা ঘটেছিল ২০১৯ সালের জুন মাসে, যখন তেলুগু দেশম পার্টির ৬ জনের মধ্যে ৪ জন সাংসদ রাজ্যসভায় বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন।

 

​একদিকে রাজ্যসভায় শক্তি বাড়ানো আর অন্যদিকে বিরোধী শিবিরকে দুর্বল করে দেওয়া— বিজেপির এই জোড়া ফলায় দিল্লির রাজনীতিতে এখন রীতিমতো শোরগোল। রাজ্যসভায় এই নয়া সমীকরণ কি আসন্ন শীতকালীন অধিবেশনে মোদী সরকারকে আরও বেশি আগ্রাসী করে তুলবে? আপনার কী মনে হয়?

আরও পড়ুন