‘প্রথম দফার যে নির্বাচন হল আমরা সেঞ্চুরি পেরিয়ে গেছি। আর আগামী নির্বাচনেও আমরা আরও একটা সেঞ্চুরি পার করব’। বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফা ভোটগ্রহণের আগে প্রচারের শেষ লগ্নে যাদবপুর থেকে পাঁচ বিধানসভা ছুঁয়ে পদযাত্রার পরে ভবানীপুরের বুকে দাঁড়িয়ে এমন দাবী করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপির উদ্দেশ্যে হুঁশিয়ারি দিয়ে মমতার দাবী, ‘এই জন্য বিজেপি ভয় পেয়ে গেছে। যে ভয় পেয়েছে, সে মরেছে।
সেই জন্য এখন পুরো কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে আর এদিকের সব ওসিকে বদলে দিয়ে, জেলাশাসককে বদলে গুন্ডা-গদ্দারি করছে। আমার আবেদন আপনারা সবাই নিজের ভোট নিজে দিন। আর ভোটার স্লিপ দয়া করে আপনার কাছে জেরক্স কপি রেখে দিন। যাতে আগামী দিনে এনআরসি করতে না পারে’। বুধবার বঙ্গে দ্বিতীয় দফার ভোট। ফলে সোমবার বিকেলই ছিল শেষ প্রচার। শেষলগ্নে ৫ বিধানসভা কেন্দ্র ছুঁয়ে প্রচারে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন বিকেলে সুকান্ত সেতু থেকে শুরু হয় তৃণমূলের মেগা মিছিল। মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়ের পাশে ছিলেন দলের সাংসদ, বিধায়ক-সহ হাজার-হাজার কর্মী-সমর্থক।
পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী এদিন যাদবপুরের সুকান্ত সেতু থেকে মিছিল শুরু করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঢাকুরিয়া ব্রিজ হয়ে গোলপার্ক, গড়িয়াহাট, বালিগঞ্জ ফাঁড়ি হয়ে ভবানীপুরে মহামিছিল শেষ হয়। এই মিছিলে তৃণমূল সুপ্রিমোর পাশাপাশি হাঁটেন টালিগঞ্জে তৃণমূল প্রার্থী অরূপ বিশ্বাস, যাদবপুরের দেবব্রত মজুমদার, রাসবিহারীর দেবাশিস কুমার, বালিগঞ্জের তৃণমূল প্রার্থী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় ও কসবার জাভেদ খান-রা। ছিলেন স্থানীয় নেতা-নেত্রীরাও। একাধিক বিধানসভা কেন্দ্র ছুঁয়ে নিজের নির্বাচনী কেন্দ্র ভবানীপুরে মহামিছিল শেষ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যে বারবার উঠে আসছে একটা আশঙ্কার কথা। তাঁর মুখে দিন কয়েক আগেই শোনা গিয়েছিল ঘোড়া-কেনাবেচা। এবার আরও একবার জল্পনা বাড়ালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
আবারও বললেন, ‘পাঁচ বছরের স্থায়ী সরকার গঠন করতে হলে ডবল সেঞ্চুরি করতেই হবে, তা না হলে বিধায়ক কিনে নিয়ে সরকার ভেঙে দিতে পারে বিজেপি’। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী দাবি করলেন, তিনি খবর পেয়েছেন, বিভিন্ন বুথে ইভিএম ক্যাপচারের চেষ্টা চলছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, ‘এখানে ২ লাখ পুলিশ পাঠিয়ে দিয়েছে। পুলিশ কী করছে। ওই কেন্দ্রীয় বাহিনী গিয়ে … আমি কাল কয়েকটা ঘটনা শুনলাম… সেন্ট্রাল ফোর্স গিয়ে, আমি কাল ২টো ঘটনা শুনলাম কম্বল লাগিয়ে ক্রিমিনালদের নিয়ে যায়। … আমি চেয়ারকে সম্মান করি। কিন্তু এটা ঠিক নয়, যখন তোমার কেউ ইভিএম ক্যাপচার করতে যায় এটা তো আপনাদের দেখা উচিত। লোডশেডিং কেন হচ্ছে ওখানে?…তুমি কারেন্ট অফ করে আর কম্বল মুড়ি দিয়ে, মুখোশ পরে গিয়ে লুঠ করার চেষ্টা করছ’।


